সবার মতামত নিয়ে তৈরি হবে আগামীর শিক্ষানীতি! বড় রদবদলের আবহে বিকাশ ভবনে মেগা বৈঠক – এবেলা

সবার মতামত নিয়ে তৈরি হবে আগামীর শিক্ষানীতি! বড় রদবদলের আবহে বিকাশ ভবনে মেগা বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং আগামী ১০০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি করতে বিকাশ ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বৈঠকে শিক্ষা দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের মুখোমুখি হন স্বপন দাশগুপ্ত ও শঙ্কর ঘোষ-সহ ১৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পর এবং নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মুখে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষামহলে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তবে প্রশাসনিক অলিন্দে জল্পনা চলছে এই দফতরের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নিয়ে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ও আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা

বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরের কাজের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ এবং পিএমশ্রী স্কুল-সহ জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-র দ্রুত বাস্তবায়ন। রাজ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি প্রযুক্ত হলে সামগ্রিক পরিকাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তর আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা বা বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থার ভিত তৈরি করাই এই ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

সর্বসম্মতির বার্তা ও পাঠ্যক্রম সংস্কারের ইঙ্গিত

বৈঠক শেষে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানান যে, অতীতের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর পথচলায় প্রত্যেকের সহযোগিতা নেওয়া হবে এবং সকলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই নতুন শিক্ষানীতি নির্ধারিত হবে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রমে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা বাদ পড়া এবং সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মতো রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এই পাঠ্যক্রম সংস্কারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী নেবেন, তবে যাই পরিবর্তন হোক না কেন তা সর্বসম্মতিক্রমেই করা হবে। এই সমন্বয়মুখী উদ্যোগের ফলে রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং পাঠ্যসূচিতে বড়সড় ভারসাম্য আসতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *