সরকারি ঘরে আস্ত সংসার পাতলেও শেষ রক্ষা হলো না, ১২ বছর পর উদ্ধার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র – এবেলা

সরকারি ঘরে আস্ত সংসার পাতলেও শেষ রক্ষা হলো না, ১২ বছর পর উদ্ধার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের কাশিনগর এলাকায় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিশুদের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (ICDS Center) দখল করে সপরিবারে বসবাস করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই বিপুল পুলিশি তৎপরতায় সেই বেদখল হওয়া কেন্দ্রটি খালি করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পর এই পুষ্টি ও প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রটি মুক্ত হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাড়ি তৈরির নামে সাময়িক আশ্রয় এবং পাকাপাকি দখল

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ সালে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টির উদ্দেশ্যে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ, নির্মাণের পর থেকেই পাশের বাড়ির বাসিন্দা অনিতা বসাক নামের এক মহিলা নিজের বাড়ি তৈরির নাম করে সাময়িকভাবে ওই কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। গ্রামবাসীদের দাবি, মাত্র কয়েক দিনের জন্য থাকতে এসে পরবর্তীতে তিনি আর সরকারি ঘর ছাড়তে রাজি হননি। উলটে নিজেকে শাসকদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সপরিবারে সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। কেন্দ্রের ভেতরে খাট, টিভি, ফ্রিজ ও রান্নার গ্যাসসহ একটি আস্ত সংসারের সমস্ত সামগ্রী ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি এই কেন্দ্রটিতে গত ১২ বছরে একদিনের জন্যও সরকারি কার্যক্রম বা পড়াশোনা শুরু করা যায়নি।

ভীতি প্রদর্শন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো লাভ হয়নি। ঘর ছাড়ার কথা বললে বা প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে গ্রামবাসীদের হুমকি দেওয়া হতো এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হতো। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় বাসিন্দারা গোটা বিষয়টি বেনিয়াগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়তের নতুন প্রধানের নজরে আনেন। অভিযোগ পেয়েই পঞ্চায়েত প্রধান ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ফরাক্কা থানার পুলিশকে খবর দেন। এরপরই পুলিশ এসে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির ভেতর থেকে খাট, টিভি, রান্নার গ্যাসসহ সমস্ত ঘরকন্ঠার সামগ্রী বের করে দিয়ে ভবনটি দখলমুক্ত করে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনে এই কেন্দ্রে যাতে দ্রুত শিশুদের পড়াশোনা ও পুষ্টির কাজ শুরু করা যায়, সেই বিষয়ে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *