শান্তি ও উন্নয়নের পথে নতুন বাংলা, বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নতুন অধ্যায়ের সূচনা! রাজ্যের অরাজকতা দূর করতে কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
নিউ টাউনের রবীন্দ্রতীর্থে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বুদ্ধ শান্তি পুরস্কার ২০২৬-এর মঞ্চ যেন এক নতুন রাজনৈতিক বার্তার প্রেক্ষাপট হয়ে উঠল। মৈত্রী পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সমাজসেবা ও বিশ্ব শান্তি প্রসারের পাশাপাশি রাজ্যের শাসনব্যবস্থার প্রথম এক মাসের খতিয়ান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা পেশ করার জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চটিকে বেছে নেওয়া হয়।
আইনের শাসন ও সুশাসনের অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দিলীপ ঘোষ বিগত ১৫ বছরের প্রশাসনিক গাফিলতি ও দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজ্যে এখন ‘শাসকের আইন’ নয়, বরং ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। আরজি কর কাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে বরদাস্ত না করে ইতিমধ্যে তিন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। এছাড়া, অতীতে নারী সুরক্ষা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিরসনে একজন মহিলা পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।
শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিশা
রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব দূরীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি আক্ষেপ করে জানান, বিগত বছরগুলোতে ৫০ লক্ষাধিক যুবক কর্মসংস্থানের খোঁজে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই চিত্র বদলাতে বর্তমান সরকার রাজ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এখন থেকে রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ বা তোলাবাজির কোনো জায়গা নেই। ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি, পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কলকাতার নতুন বিমানবন্দর ও খড়গপুরের কলাইকুন্ডা বিমানঘাঁটিকে সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। আধুনিক সড়ক, রেল ও জলপথের মাধ্যমে বাংলাকে শিল্পের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে বর্তমান সরকার।
