ঘরছাড়াদের তালিকা ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নির্দেশ, ডিজি দপ্তরে নালিশ তৃণমূলত্যাগী বিধায়কদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে ভাঙনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলের নিচুতলার কর্মীদের নিরাপত্তা ও এলাকা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে তৎপরতা তুঙ্গে উঠল। সদ্য নতুন শিবিরে সই করা বিধায়কদের নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি)-র সঙ্গে বৈঠক করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহার মতো বিধায়করা। জেলা ও বিভিন্ন এলাকায় দলের কর্মীরা যেভাবে আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া হচ্ছেন, তা নিয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি এবং আক্রান্তদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আক্রমণের মুখে বিধায়করা, উত্তপ্ত এন্টালি
এই রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা। সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা সন্দীপনের বাড়ির সামনে মাইক হাতে বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁর ও তাঁর বাবা, প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বিরুদ্ধে কাটমানি তোলার অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার পর সন্দীপনের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি পুলিশের নজরে এনে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
পাল্টা কৌশল ও সমান্তরাল সমীকরণ
এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে একদিকে কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা এবং অন্যদিকে পুরোনো শিবিরে ফেরার মরিয়া চেষ্টা। এই ডামাডোলের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে বিধায়কদের উপস্থিত থাকার বার্তা পাঠানো হয়েছে। ঋতব্রত শিবির এখন সতর্ক নজর রাখছে যে কতজন বিধায়ক শেষ পর্যন্ত কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দেন। এরই মধ্যে তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেনের দাবি, দলত্যাগী বেশ কয়েকজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন এক সমান্তরাল সমীকরণের আবহ তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের স্নায়ুর লড়াইকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
