ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবার স্টেশনের নামে! সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম বদলে নতুন পরিচয়ে ফিরছে বৈষ্ণব ঐতিহ্য!
বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও বৈষ্ণব ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খড়দহের বিধায়ক ও মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করেছেন। শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের ধর্মীয় মাহাত্ম্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈষ্ণব ঐতিহ্যে নতুন পরিচিতি
প্রভু নিত্যানন্দের স্মৃতিবিজড়িত খড়দহ এবং জলহাটি অঞ্চল শতাব্দীপ্রাচীন বৈষ্ণব সংস্কৃতির ধারক। ঐতিহাসিক চৈতন্য ভাগবত-সহ বিভিন্ন গ্রন্থে এই এলাকার উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় মন্দিরগুলোকে কেন্দ্র করে টেম্পল ট্যুরিজম বা ধর্মীয় পর্যটন প্রসারের লক্ষ্যেই স্টেশন দুটির নাম ‘শ্রীপাট খড়দহ’ ও ‘জলহাটি’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার পর্যটন মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে এবং ধর্মীয় পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় স্তরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও সাত প্রকল্প
কেবল স্টেশন নয়, খড়দহের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও সাতটি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বিটি রোডের সঙ্গে খড়দহ স্টেশনের সংযোগকারী ফ্লাইওভার নির্মাণ, যা যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি, জনগুরুত্বপূর্ণ বলরাম হাসপাতালের উন্নয়ন, খড়দহের খাল সংস্কার এবং স্টেশনকে মডেল স্টেশনে রূপান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে। বিশেষ করে খালের পলি অপসারণের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং খালের ওপর রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি স্তরে আলোচনা চলছে। এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে খড়দহ ও সংলগ্ন এলাকার যোগাযোগ ও নাগরিক জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
