যুবশক্তিকে হাতিয়ার করে নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা কর্নাটকে, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফ্রি বাস পাস সহ একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নতুন মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কর্নাটকের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যের উন্নয়ন ও যুব সমাজের কর্মসংস্থানে একঝাঁক বড় ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। বুধবার শপথ গ্রহণের পর বেঙ্গালুরু সহ গোটা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে ছয় দফার একটি বিশেষ এজেন্ডা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীরা, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষায় বড় ছাড় ও যাতায়াত সহজ করার উদ্যোগ
নতুন সরকারের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হলো রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে বাস পাসের ব্যবস্থা করা। এর আগে কর্নাটকে শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য বাসে যাতায়াত ফ্রি ছিল, এবার সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী এই সুবিধার আওতায় আসবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষাক্ষেত্রে যাতায়াতের খরচ সম্পূর্ণভাবে কমে যাবে, যা গ্রামীণ ও শহরতলির পড়ুয়াদের স্কুল-কলেজে ড্রপ-আউট বা পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কীভাবে এই পাসের জন্য আবেদন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াটি সরকার শীঘ্রই বিস্তারিত জানাবে।
বেসরকারি কর্মসংস্থান ও সড়ক পরিকাঠামোয় জোর
যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরি করতে কর্নাটকে একটি ‘প্রাইভেট সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। একই সাথে রাজ্যে থাকা ৫৬ হাজার সরকারি শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কন্নড়বাসীরাই অগ্রাধিকার পাবেন। এক মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতি তৈরি করা হবে।
এর পাশাপাশি সিলিকন ভ্যালি খ্যাত বেঙ্গালুরু শহরের যানজট ও বেহাল দশা দূর করতে ২ হাজার কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের পরিকাঠামো উন্নয়ন ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি নগরীর বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। গ্রামীণ স্তরে যুবকদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ লাখ টাকা অনুদান সহ মোট ১০ হাজার ‘ভারত জোড়ো ইয়ুথ ক্লাব’ গড়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং ছাত্রবান্ধব এই নীতিগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
