সরকারি ত্রাণের ত্রিপল ও সাদা থান উদ্ধার, বনগাঁয় গ্রেপ্তার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যসহ ২ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর উত্তর কালোপুর পঞ্চায়েতের হানিডাঙা এলাকায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত ও আত্মসাতের অভিযোগে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত পঞ্চায়েত সদস্যের নাম শংকর মণ্ডল এবং তাঁর আত্মীয়ের নাম নারায়ণ মণ্ডল। তাঁদের হেফাজত থেকে কয়েকশো ত্রিপল, কাপড় ও চাদরের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সাদা থান কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েত সদস্য শংকর মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০টি সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি নারায়ণ মণ্ডলের বাড়ি, সংলগ্ন কলাবাগান ও চাষের জমি থেকেও শয়ে শয়ে ত্রিপল ও চাদর উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষকে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে এই ত্রাণসামগ্রী চুরি ও লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও বিজেপির বিস্ফোরক দাবি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। পঞ্চায়েতের বিজেপির বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সাধারণ ও গরিব মানুষ যখন ত্রাণের ত্রিপল পাচ্ছেন না, তখন তৃণমূল নেতারা তা নিজেদের বাড়িতে লুকিয়ে রাখছেন। উদ্ধার হওয়া সাদা থান কাপড় নিয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূল জিতলে বিজেপি কর্মীদের বাড়ির মহিলাদের জোর করে সাদা থান পরানোর এক কুৎসিত পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পাল্টা সাফাই ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
অবশ্য সমস্ত চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য শংকর মণ্ডল। তাঁর দাবি, বনগাঁ পৌরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছ থেকে এই ত্রিপলগুলো আনা হয়েছিল। আসন্ন বর্ষার মরসুমে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে বিলি করার জন্যই এগুলো মজুত রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী এভাবে ব্যক্তিগত জমিতে বা বাড়িতে মজুত করার প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে কোনো বড়সড় আর্থিক চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার জেরে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
