সাধের দেওয়ালে সাদা গুঁড়ো কি অশুভ সংকেত? নোনা ধরা রুখতে বাস্তু টিপস ও স্থায়ী সমাধানের উপায় – এবেলা

সাধের দেওয়ালে সাদা গুঁড়ো কি অশুভ সংকেত? নোনা ধরা রুখতে বাস্তু টিপস ও স্থায়ী সমাধানের উপায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঘরের নতুন রং করা দেওয়ালে সাদা গুঁড়োর আস্তরণ বা পলেস্তারা খসে পড়া কেবল একটি নির্মাণজনিত ত্রুটি নয়, বরং এটি আপনার স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সমৃদ্ধির পথেও বড় বাধা। কলকাতা ও হাওড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতে বর্তমানে এই ‘নোনা ধরা’ বা ‘এ ফ্লোরেসেন্স’ সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। মাটির নিচ থেকে লবণাক্ত জল ইটের মাধ্যমে শোষিত হয়ে দেওয়ালে এই সাদা আস্তর তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে পুরো কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়।

বাস্তুদোষ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও বাস্তুবিদদের মতে, উত্তর ও পূর্ব দিক হলো সম্পদ ও সমৃদ্ধির অধিপতি কুবের ও ইন্দ্রের স্থান। এই দিকের দেওয়ালে নোনা ধরা বা স্যাঁতসেঁতে ভাব মানেই লক্ষ্মী বিদায়ের সংকেত, যা ব্যবসায় লোকসান ও অকারণ খরচ বাড়িয়ে দেয়। শুধু শাস্ত্র নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতেও এই নোনা ধরা দেওয়ালে জন্মানো ফাঙ্গাস থেকে হাঁজল, অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশির মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে পারে।

কারণ ও প্রতিকারের উপায়

বাড়ি তৈরির সময় সঠিক ‘ড্যাম্প প্রুফ কোর্স’ না করা, বাথরুমের কল বা পাইপ লিকেজ এবং প্লাস্টারে নোনা বালি ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ দিয়ে লিকেজ মেরামত এবং ওয়াটারপ্রুফিং কেমিক্যাল ব্যবহার করা জরুরি। তবে তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য বাড়িতে থাকা ভিনিগার বা ফিটকিরি জল দিয়ে নোনা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট প্রাইমার ব্যবহার করলে অন্তত ৬-৮ মাস দেওয়ালকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সাশ্রয়ী সমাধান

পুরো দেওয়াল মেরামতের বাজেট না থাকলে স্বল্প খরচে ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ করা যেতে পারে। তারের ব্রাশ দিয়ে নোনা পরিষ্কার করে ভিনিগার মিশ্রিত জল এবং পরবর্তীতে ফিটকিরি জল ব্যবহার করলে নোনার বিস্তার থমকে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য আক্রান্ত জায়গার প্লাস্টার পুরোপুরি তুলে ফেলে সিমেন্টের সাথে জলরোধী কেমিক্যাল মিশিয়ে নতুন করে প্লাস্টার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এক ঝলকে

  • প্রধান কারণ: মাটির লবণাক্ত জল শোষণ, পাইপ লিকেজ এবং ভেন্টিলেশনের অভাব।
  • ক্ষতির প্রভাব: বাড়ির আয়ু হ্রাস পায় এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ছড়ায়।
  • বাস্তু প্রভাব: উত্তর-পূর্ব দেওয়ালে নোনা ধরলে আর্থিক ক্ষতি ও সঞ্চয়ে বাধা আসে।
  • জরুরি টিপস: নোনার ওপর সরাসরি রং বা পিওপি (POP) লাগানো এড়িয়ে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *