‘সারপ্লাস’ শিক্ষক বদলিতে হাইকোর্টের বড় ধাক্কা, প্রক্রিয়া স্থগিত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 16, 20267:28 am
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে আপাতত থমকে গেল রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ‘সারপ্লাস’ বা অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ধরনের সমস্ত অন্তর্বর্তী নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ জারি করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যের কোনো স্কুলেই ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ কার্যকর করা যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের বনমালীপুর সন্তোষ ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা সোমা সর্দারকে ঘিরে এই মামলার সূচনা। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ওই স্কুলের একমাত্র গ্র্যাজুয়েট ইংরেজি শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা দপ্তর তাঁকে ‘অতিরিক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিআই দপ্তরে তলব করে। আবশ্যিক একটি বিষয়ের একমাত্র শিক্ষককে কীভাবে ‘সারপ্লাস’ বলা হতে পারে—তা নিয়ে সরব হন তাঁর আইনজীবী।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিতর্কিত নিয়ম শুনানি চলাকালীন বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও এসওপি-র (SOP) বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
- স্বচ্ছতার অভাব: কোন আইনি বিধির ভিত্তিতে একজন বিষয়-শিক্ষককে অতিরিক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা মেলেনি।
- বয়সের মাপকাঠি: অভিযোগ উঠেছে, বিষয়ে শিক্ষকের ঘাটতি বিচার না করে, স্কুলের তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষকদেরই জোর করে ‘সারপ্লাস’ দেখিয়ে বদলি করা হচ্ছিল।
শিক্ষক সংকটের ছবি শিক্ষক সংগঠন এপিজিটিডব্লিউএ (APGTWA)-র মতে, আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে জুলাই মাসের এসওপি মেনে শুরু হওয়া স্কুল বাছাই ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটিই থমকে গেল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণিতে যেখানে প্রায় ৯৮,৩৪৯ জন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষার দোহাই দিয়ে যেভাবে বদলি চালানো হচ্ছিল, আদালতের আদেশে তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
