সীমান্তে বাড়ছে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়, কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য প্রশাসন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বৃদ্ধির ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ভুয়ো ও বৈধ নথি জোগাড় করে এ দেশে টিকে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন জেলার ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ পাঠানো হচ্ছে।
রাজ্যের হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে ব্যাপক কড়াকড়ি
রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে মোট ৩৮৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট জেলায়, যেখানে এক ধাক্কায় ৩৩৫ জনকে আটকে রাখা হয়েছে। বসিরহাটের তেঁতুলিয়া পাথরশাঠি, চারঘাট ফ্লাড সেন্টার ও মিডিয়া সুবাসনগর ফ্লাড সেন্টারে এদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ১৯ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন এবং মালদায় ৯ জন অনুপ্রবেশকারী প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাতেও একাধিক অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পেট্রাপোলের কাছে নতুন হোল্ডিং সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
অনুপ্রবেশের মূল কারণ হিসেবে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং অবৈধ উপায়ে এ দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র জোগাড়ের প্রবণতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রশাসনের বর্তমান কঠোর অবস্থান এবং ডিটেনশন ও ডিপোর্টেশন (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া ঘিরে জেলাগুলিকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশিকার ফলে অনুপ্রবেশের হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় জেলে রেখে ভরণপোষণ করার পরিবর্তে হোল্ডিং সেন্টারে সাময়িক আটকে রেখে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যতে অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।
