সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি, পাহাড়প্রমাণ মামলা সামলাতে ঐতিহাসিক অনুমোদন রাষ্ট্রপতির – এবেলা

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি, পাহাড়প্রমাণ মামলা সামলাতে ঐতিহাসিক অনুমোদন রাষ্ট্রপতির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ক্রমবর্ধমান মামলার পাহাড়প্রমাণ চাপ সামলাতে নজিরবিহীন ও বড়সড় পদক্ষেপ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা এক ধাক্কায় আরও ৪ জন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শনিবার একটি বিশেষ অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাষ্ট্রপতির ওই নির্দেশের পরপরই কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের তরফে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টিতে সরকারি সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বেড়ে এক লাফে হল ৩৭ জন।

বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ

সাধারণত সংসদের অধিবেশন চলাকালীন আলোচনার মাধ্যমেই সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতির পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে সংসদের কোনও অধিবেশন না থাকায় এবং বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হওয়ায়, সংবিধানের ১২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মামলার চাপ দ্রুত সামলানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সংসদের উভয় কক্ষে এই অধ্যাদেশটি পাস করিয়ে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে হবে। এর ফলে ‘সুপ্রিম কোর্ট আইন, ১৯৫৬’ সংশোধিত হলো, যেখানে আগে প্রধান বিচারপতি বাদে মোট বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ জন নির্ধারিত ছিল। এই নতুন সংশোধনীর ফলে এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টে দেশের প্রধান বিচারপতি ছাড়াও আরও ৩৬ জন বিচারপতি থাকতে পারবেন।

মামলার জট ও দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারপতির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত শুনানি করা, মামলার দীর্ঘদিনের জট কাটানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নতুন সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ৩২ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন, যা পূর্বের নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে একজন কম। রাষ্ট্রপতির নতুন অধ্যাদেশের পর শূন্যপদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫টিতে। এখন নতুন করে ৫ জন বিচারপতিকে নিয়োগ করা হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সমস্ত আসন পূর্ণ হবে। নতুন এই আসন বৃদ্ধির ফলে শীর্ষ আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক গতি আসবে বলেই মনে করছে দেশের আইন মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *