সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলা, ৬ তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তারিতে ঘনীভূত রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হামলার মুখে পড়ে চিকিৎসাধীন হতে হওয়া এই নেতার ওপর আক্রমণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসতেই পুরো ঘটনায় এক নতুন মোড় নিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
লাভলি মৈত্রের অনুগামীদের যোগসূত্র
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, তারা সকলেই সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ। এলাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। শনিবারের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ তাদের চিহ্নিত করে এবং বারুইপুর আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই গ্রেপ্তারির পর ঘটনার পেছনে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার পেছনে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এবং স্থানীয় আদি বিজেপি কর্মীরা এই তত্ত্বে ধোঁয়াশা দেখছেন। তাদের দাবি, যে এলাকায় কিছুদিন আগেও তৃণমূলের একছত্র দাপট ছিল, সেখানে রাতারাতি এত বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী কোথা থেকে এলেন। অনেকের অনুমান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর কিছু প্রাক্তন তৃণমূল কর্মী নিজেদের পরিচয় বদলে বিজেপির ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোদ শীর্ষনেতৃত্বের ওপর দলেরই প্রাক্তন বা বর্তমান কর্মীদের একাংশের এমন আক্রমণ তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকে যেমন প্রকাশ্যে এনেছে, তেমনই তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণও দ্রুত বদলে যেতে পারে।
