সোনারপুরে হেনস্তার পর বাড়িতেই চিকিৎসার পরিকাঠামো, সিআইডি হাজিরা কি এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে নজিরবিহীন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শনিবার রাতের পর রবিবারেও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলে জানা গেছে। দুটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁকে ‘ফিট’ সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বর্তমানে কালীঘাট রোডের বাড়িতেই কার্যত মিনি হাসপাতাল গড়ে তুলে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সিআইডির তলবে তিনি ভবানীভবনে হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বাড়িতেই নিবিড় নজরদারি ও চিকিৎসা
শনিবার সোনারপুরে হেনস্তার শিকার হয়ে কলকাতায় ফেরার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর চোট না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভরতি না করার সিদ্ধান্ত নিলেও, তাঁর শারীরিক অস্বস্তি কাটেনি। দলীয় সূত্রে খবর, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন এবং তাঁর রক্তচাপ বারবার ওঠানামা করছে। শনিবার রাতের পর রবিবার সকালেও তাঁকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে এবং বাড়িতেই স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইসিইউ-প্রশিক্ষিত নার্স এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে, অতীতে চোখের সমস্যা থাকায় এবং গতকালের ঘটনায় চশমা ভেঙে যাওয়ায় তাঁর চোখের পরিস্থিতি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসার স্বার্থে আপাতত তাঁর বাড়িতে বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিআইডি হাজিরা নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিধানসভার জাল সই কাণ্ডের তদন্তে সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করেছে সিআইডি। শনিবার দুপুরে তাঁর হরিশ মুখার্জী রোডের বাড়িতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে, পরবর্তীতে কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর হাতে নোটিশ ধরান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার এবং বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দর্শিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডির কাছে হাজিরার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিতে পারেন। তবে তিনি শেষ মুহূর্তে সিআইডি দপ্তরে পৌঁছবেন, নাকি আইনি ও চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যাবেন, তা পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হবে।
