স্কুলে এবার গায়ত্রী মন্ত্র ও সরস্বতী বন্দনা বাধ্যতামূলক! ছত্তীসগড়ে বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে সংঘাত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রায়পুর: নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন থেকেই ছত্তীসগড়ের শিক্ষা ক্ষেত্রে তুমুল শোরগোল। রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে প্রতিদিন বৈদিক মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র এবং সরস্বতী বন্দনা আবৃত্তি বাধ্যতামূলক করেছে বিজেপি সরকার। আর এই সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষাব্যস্থাকে জোরপূর্বক ‘গেরুয়াকরণ’ করার চেষ্টা করছে শাসকদল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোই এর আসল উদ্দেশ্য।
ছত্তীসগড় স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘বৌদ্ধিক বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতা’ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার থেকে প্রতিটি সরকারি স্কুলে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে হবে।
কী থাকছে এই নতুন রুটিনে?
সকালের প্রার্থনা সভায় জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানের পাশাপাশি গাইতে হবে ‘দীপ মন্ত্র’, ‘সরস্বতী বন্দনা’ এবং ‘গুরু মন্ত্র’। এর পাশাপাশি দেশের বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ করা হবে। মিড-ডে মিল বা দুপুরের খাবারের ঠিক আগে পড়ুয়াদের আবৃত্তি করতে হবে ‘ভোজন মন্ত্র’। এছাড়া, স্কুল ছুটির ঠিক আগে গাইতে হবে রাজ্য সংগীত। সেই সঙ্গে গায়ত্রী মন্ত্র ও শান্তি মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে শেষ হবে ক্লাস।
খড়্গহস্ত বিরোধী শিবির:
সরকারি স্কুলের এই নতুন নিয়ম ঘিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের দাবি, এই নির্দেশিকা সরকারি স্কুলের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করছে।
ছত্তীসগড় কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের চেয়ারম্যান সুশীল আনন্দ শুক্লা সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, “বিজেপি সরকার আসলে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারি স্কুলগুলোকে আরএসএস-এর ‘সরস্বতী শিশু মন্দির’-এর ধাঁচে চালাতে চাইছে। সরকারি স্কুলে সব ধর্ম এবং সব সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে। সেখানে এভাবে ধর্মীয় আচার বা মন্ত্র বাধ্যতামূলক করা সংবিধান বিরোধী।” এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে অন্যান্য সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও একই ধরনের দাবি ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল:
যদিও বিরোধীদের এই ‘গেরুয়াকরণের’ অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী গজেন্দ্র যাদব সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করে জানিয়েছেন, “প্রার্থনা সভায় এই মন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে কোনও রাজনীতি নেই। এর একমাত্র উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা।”
উল্লেখ্য, ১৬ জুন থেকেই ছত্তীসগড়ে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। প্রথম দিনে ‘শালা প্রবেশ উৎসব’-এর মাধ্যমে নতুন ছাত্রছাত্রীদের কপালে ঐতিহ্যবাহী তিলক পরিয়ে স্কুলে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে উৎসবের আবহের মধ্যেই এই ‘মন্ত্র বিতর্ক’ আগামী দিনে ছত্তীসগড়ের রাজনীতিকে আরও কতটা উত্তপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার।
