স্কুল জীবন থেকেই কাজের দক্ষতা! নবম-দশমে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বৃত্তিমূলক পাঠ?

রাজ্যের কলেজগুলোতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর দাবি, বিকাশ ভবনে স্মারকলিপি শিক্ষক সংগঠনের
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সরকারি কলেজগুলোতে নতুন করে বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational Education) চালু করার জোরালো দাবি তুলেছে শিক্ষক সংগঠন। সোমবার ‘ইউনাইটেড ওয়েস্ট বেঙ্গল এনএফকিউএফ’-এর তরফে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি নিরুপম কোলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বিকাশ ভবনে গিয়ে এই দাবি পেশ করেন। মূলত কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানই এই স্মারকলিপির মূল লক্ষ্য।
উচ্চশিক্ষায় বৃত্তিমূলক কোর্সের প্রয়োজনীয়তা
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রাজ্যের স্কুলগুলোতে পর্যটন, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং রিটেল ম্যানেজমেন্টসহ ১৬টি বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর এই কোর্সগুলো নিয়ে সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, সরকারি কাঠামোয় ব্যাচেলর ইন ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হলে সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা কম খরচে দক্ষতামূলক উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
নবম-দশম শ্রেণিতে আবশ্যিক শিক্ষার দাবি
জাতীয় শিক্ষানীতির পরিপ্রক্ষিতে এই শিক্ষক সংগঠন দাবি জানিয়েছে যে, নবম ও দশম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আবশ্যিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গত সাত বছর ধরে কার্যত পাঠ্যবই এবং উপযুক্ত গবেষণাগার ছাড়াই বিদ্যালয় স্তরে এই বিষয়ের পঠনপাঠন চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রেও যোগ্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে পঠনপাঠনের গুণগত মান বজায় থাকে।
এজেন্সির বেড়াজাল ও শিক্ষকদের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
কেবল পাঠ্যক্রম নয়, শিক্ষকদের চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নিরুপম কোলে জানান, বর্তমানে এই শিক্ষকরা এজেন্সির মাধ্যমে নিযুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার বরাদ্দ টাকা এজেন্সিকে দিলেও, নিয়োগকর্তা এই এজেন্সিগুলো সময়মতো শিক্ষকদের বেতন প্রদান করছে না। ডিসেম্বরের বেতন এপ্রিলে পাওয়ার মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এই হেনস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সরাসরি সরকারি অধীনে স্থায়ীকরণের দাবি তুলেছেন।
এক ঝলকে
- সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬টি বিষয়ে ব্যাচেলর ইন ভোকেশনাল কোর্স চালুর দাবি।
- জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে নবম ও দশম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আবশ্যিক করার প্রস্তাব।
- পর্যাপ্ত পাঠ্যবই ও গবেষণাগারের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ।
- প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার দায়িত্বে যোগ্য শিক্ষকদের নিযুক্ত করার দাবি।
- এজেন্সির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি ও শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন।
- বেতন বঞ্চনা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরকারি পদক্ষেপের দাবি।
