“স্টেপ আউট করে নয়, বাউন্ডারির বাইরে থেকে বল ছুড়ছেন!” সৌরভকে বেনজির কটাক্ষ শমীকের – এবেলা

“স্টেপ আউট করে নয়, বাউন্ডারির বাইরে থেকে বল ছুড়ছেন!” সৌরভকে বেনজির কটাক্ষ শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার রাজনীতির আঙিনায় সৌজন্যের আবহ ছাপিয়ে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন ক্রিকেট মহাতারকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সরাসরি নাম উচ্চারণ না করলেও, মঙ্গলবার নাম না করে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে কড়া ভাষায় বিঁধলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিশেষ করে ২০২৩ সালের স্পেন সফরে সৌরভের উপস্থিতি এবং সেখান থেকে দেওয়া লগ্নির প্রতিশ্রুতিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা।

পুরনো লগ্নির প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান বাস্তবতা

২০২৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর স্পেন সফরে সঙ্গী হয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই সফর থেকে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলায় বড়সড় বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কলকাতার বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি সভায় সেই প্রসঙ্গ টেনেই মঙ্গলবার কটাক্ষ ছুড়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। সৌরভের বিখ্যাত ব্যাটিং শৈলীর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি এক ভদ্রলোককে চিনতাম, যিনি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিশাল ওভার বাউন্ডারি মারতে দক্ষ ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম, তিনি বাউন্ডারির বাইরে থেকে বল ছুড়ছেন!” তাঁর দাবি, স্পেন থেকে বাংলার শিল্পের যে ঘোষণা করা হয়েছিল, আজ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও তার হদিস মিলবে না।

বিনিয়োগের পরিবেশ ও প্রশাসনিক সংস্কার

রাজ্যের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, বিদেশের বিলাসবহুল পরিবেশে বসে লগ্নির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়েই শিল্পের পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে অরাজকতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে বহু ব্যবসায়ী ভিনরাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

শমীক ভট্টাচার্য এদিন শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে জানান যে, শিল্প স্থাপনের পথে অন্তরায় হওয়া ‘তোলাবাজি’ বা ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বর্তমান সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। একটি স্বচ্ছ জমি-নীতি এবং আইনি জটিলতামুক্ত পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলার ব্যবসায়ীদের পুনরায় ঘরের মাটিতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীকের এই মন্তব্য একদিকে যেমন সৌরভের মতো ব্যক্তিত্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, অন্যদিকে রাজ্যের শিল্পায়নের প্রশ্নে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *