স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আলোনসো যুগ, চিরশত্রুর পুরনো সৈনিকের হাতেই চেলসির ভবিষ্যৎ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লন্ডনের ফুটবল মহলে জল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অফিশিয়াল ঘোষণা করল চেলসি কর্তৃপক্ষ। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের নতুন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড জাবি আলোনসো। লন্ডনের ব্লুজদের সঙ্গে আগামী চার বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আগামী ১ জুলাই থেকে চেলসির ডাগআউটের ব্যাটন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের হাতে তুলে নেবেন এই স্প্যানিশ কোচ। ঘটনাচক্রে, খেলোয়াড় জীবনে চেলসির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব লিভারপুলের হয়ে দীর্ঘদিন মাঠ কাঁপিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর এই নতুন অধ্যায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করল।
বাস্তবতা হলো, রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অধ্যায়টি আশানুরূপ সফল না হলেও বায়ার লেভারকুসেনে ইতিহাস গড়েছিলেন আলোনসো। ২০২৩-২৪ মরসুমে তাঁর অধীনে অপরাজিত থেকে বুন্দেসলিগা ও ডিএফবি পোকাল জেতে লেভারকুসেন। এই সাফল্যের হাত ধরেই ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন কোচ হয়ে ওঠেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে তাঁর এই প্রতিভা ও প্রতিশ্রুতির ওপরেই শেষ পর্যন্ত বড় বাজি ধরল চেলসি। চেলসি কর্তৃপক্ষের মতে, আলোনসোর অনন্য ‘গেম মডেল’, ‘নেতৃত্বদানের ক্ষমতা’ এবং ‘কোচিংয়ের গুণমান’-এর কারণেই তাঁকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত পরিবর্তন ও নতুন ট্যাকটিক্স
আলোনসোর আগমনে চেলসির খেলার কৌশলে বড়সড় রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। বায়ার লেভারকুসেনে তিনি মূলত ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতেন, যার মূল ভিত্তি ছিল আক্রমণাত্মক প্রেসিং, ছোট ছোট নিখুঁত পাস এবং নিয়ন্ত্রিত ফুটবল। সদ্য সমাপ্ত এফএ কাপের ফাইনালে চেলসি পরাজিত হলেও, অন্তর্বর্তী কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেন দলকে ৩-৪-২-১ ছকেই মাঠে নামিয়েছিলেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সেটি মূলত আলোনসোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারই একটি আগাম মহড়া বা ‘ট্রায়াল ভার্সন’ ছিল।
এই নতুন সিস্টেমে চেলসির বর্তমান স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন ফুটবলার দারুণভাবে মানিয়ে নিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাইট-ব্যাক রিস জেমস ফিট থাকলে এবং মালো গুস্তোর গতি চেলসির নতুন উইং-ব্যাক পজিশনে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মাঝমাঠে মইসেস কাইসেডো, রোমিও লাভিয়া ও এনজো ফার্নান্দেজদের পাসিং দক্ষতার সঙ্গে আলোনসোর ফুটবল দর্শনের চমৎকার মিল রয়েছে। একই সাথে আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোল পালমার এই নতুন কৌশলে আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন।
দল গঠনে সম্ভাব্য প্রভাব ও কোপ
নতুন কোচের নিজস্ব দর্শনের কারণে চেলসি স্কোয়াডের বেশ কিছু ফুটবলারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে চলেছে। আলোনসোর চেনা সিস্টেমে প্রথাগত উইঙ্গারের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত। এর ফলে দলে থাকা আলেহান্দ্রো গার্নাচো কিংবা জেমি গিটেন্সদের মতো উইঙ্গারদের ভবিষ্যৎ বা একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি চেলসির রক্ষণভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব এবং টসিন আদারাবিয়োর ধীরগতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা চলছে। ফলে আসন্ন ট্রান্সফার মার্কেটে রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে চেলসি যে নতুন সেন্টার-ব্যাক খোঁজার লড়াইয়ে নামবে, তা অনেকটাই নিশ্চিত। জাবি আলোনসোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে চেলসি স্কোয়াডে বড় রকমের ওলটপালট এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
