স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে ম্যারাথন জেরা, ভবানী ভবনে মুখোমুখি অভিষেক ও কুণাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত নথিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হল। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে তলব করেছিল সিআইডি। কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডি সদর দফতরে এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে দীর্ঘ সময় ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা সাড়ে আট ঘণ্টারও বেশি সময় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা।
প্রথমে আলাদা, পরে মুখোমুখি জেরা
সিআইডি সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে। বয়ানের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রথমে অভিষেক ও কুণালকে আলাদা ঘরে বসিয়ে জেরা করা হয়। পরবর্তীতে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। কোন বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং কীভাবে নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছিল, মূলত সেই বিষয়গুলি নিয়েই বিশদে জানতে চাওয়া হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়াই সিআইডির তরফে রেকর্ড করা হয়েছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, মুখোমুখি জেরায় তিনি সমস্ত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়েছেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তবে এই জেরা প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক জল্পনা। শাসক দলের দুই শীর্ষ নেতাকে সিআইডি-র এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ প্রমাণ করছে যে, স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির অভিযোগের গভীরে পৌঁছাতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনে শাসক দলের অন্দরে ও রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল চাপানউতোর তৈরি হতে পারে এবং আইনি পদক্ষেপের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
