হরমুজ সংকটে চীন বনাম আমেরিকা, ১৫ যুদ্ধজাহাজে পাল্টা জবাব!

হরমুজ সংকটে চীন বনাম আমেরিকা, ১৫ যুদ্ধজাহাজে পাল্টা জবাব!

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ: জ্বালানি সংকটের মুখে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের মাঝে এবার সরাসরি জড়িয়ে পড়ল চীন। বেইজিং এই পদক্ষেপকে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

চীনের ক্ষোভ ও মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ

ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ ও বাণিজ্যিক বিষয়ে ওয়াশিংটন যেন হস্তক্ষেপ না করে। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান ও চীনের সম্পর্কের মাঝে আমেরিকার নাক গলানো কাম্য নয়। তিনি জোর দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালী চীনের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই পরিস্থিতির সমাধানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জলপথের নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন চলাচল অত্যন্ত জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষ থামাতে চীন যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত, তা-ও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

কেন এই অবরোধ চীনের জন্য আশঙ্কাজনক?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী চীনের অর্থনীতির জন্য একটি জীবনরেখার মতো। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  • তেল সরবরাহ: চীনের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়, যা দেশটির কারখানার উৎপাদন সচল রাখে।
  • গ্যাস আমদানি: চীনের এলএনজি (LNG) চাহিদার ৩০ শতাংশ মেটে এই পথেই।
  • অর্থনৈতিক ঝুঁকি: এই জলপথে দীর্ঘমেয়াদী বাধার অর্থ হলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা চীনের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল ও সামরিক প্রস্তুতি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর চারপাশে কঠোর অবরোধ গড়ে তুলেছে। এই পদক্ষেপের পেছনে কৌশলগত লক্ষ্য থাকতে পারে চীনের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া, যাতে চীন চাপের মুখে পড়ে ইরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে যে, ইরানি বন্দর অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বহর মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • ১টি বিমানবাহী রণতরী।
  • ১১টি ডেস্ট্রয়ার।
  • ১টি উভচর জাহাজসহ মোট ১৫টি যুদ্ধজাহাজ।

মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, যেসব দেশ ইরানি বন্দর ব্যবহার করবে তারা এই অবরোধের আওতায় পড়বে। তবে ইরান বাদে অন্য দেশের উদ্দেশ্যে যাওয়া জাহাজগুলোকে আটকানো হবে না, যদিও তল্লাশির জন্য তাদের থামানো হতে পারে।

এক ঝলকে

  • ঘটনা: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানের ওপর কঠোর নজরদারি।
  • চীনের অবস্থান: অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি।
  • ঝুঁকি: চীনের ৪০% তেল এবং ৩০% এলএনজি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
  • মার্কিন শক্তি: প্রণালীর চারপাশে ১৫টি যুদ্ধজাহাজসহ একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন।
  • লক্ষ্য: ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং পরোক্ষভাবে চীনের অর্থনীতিকে চাপে ফেলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *