‘হিটলারের থেকেও বেশি ক্ষমতা চালিয়েছিলেন!’ মমতার ১৫ দিনের ডেডলাইনে মদনের তোপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সাংগঠনিক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের দলে ফিরতে ১৫ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়েছেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলের মাধ্যমে কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বার্তায় নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
‘গদ্দারদের কোনো ক্ষমা নেই’: মমতার হুঙ্কার সভা থেকে সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিপুল জনসমর্থনে জেতা নেতাদের টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হয়েছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বেইমান ও গদ্দারদের কোনো ক্ষমা নেই। এখনও যাঁদের ফেরার ইচ্ছা আছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। না ফিরলে কোনো ব্যাপার নয়, আমরা আমাদের পথ নিজেরাই দেখে নেব।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়া এবং অন্যদিকে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মমতার এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘হিটলারের থেকেও বেশি ক্ষমতা চালিয়েছিলেন!’ বিস্ফোরক মদন মমতার এই ডেডলাইনের পর চুপ থাকেননি কামারহাটির বিধায়ক তথা গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র। চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি বলেন, “নেত্রী কর্মীদের ডাক দেওয়ার আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন—একসময় চরম ক্ষমতা আপনার হাতে ছিল, বোধহয় হিটলারের থেকেও বেশি ক্ষমতা চালিয়েছিলেন! আজ কর্মীরা ঠিক কীসের ভরসায় ফিরবে? রাজনীতি যে জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে, তাতে আদৌ রাজনীতি করা সম্ভব কি না, তা ভাবার সময় এসেছে।”
‘অহঙ্কারের ফল পাচ্ছেন’: আক্রমণ অধীরের অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম কটাক্ষ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “সব হারিয়ে এখন কোনোমতে বাঁচার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে অহঙ্কার আর দম্ভের কারণে তিনি বাস্তব বোঝেননি। যা হওয়ার ছিল, ঠিক সেটাই হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক সংকট আর মমতার বেঁধে দেওয়া ১৫ দিনের আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।
