হু হু করে কমতে পারে সোনার দাম! আমেরিকার জোড়া ধাক্কায় বদলাচ্ছে হিসেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ব্যাপকভাবে সস্তা হতে চলেছে সোনা। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলারের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠাই এই সম্ভাব্য পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। যাঁরা ভবিষ্যতে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন বা ইতিমধ্যেই উচ্চমূল্যে বিনিয়োগ করে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রেকর্ড উচ্চতা থেকে পতন
চলতি বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫,৫৯৫ ডলারের সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছিল। তবে তারপর থেকেই বাজারে ‘কারেকশন পিরিয়ড’ শুরু হওয়ায় সর্বোচ্চ স্তর থেকে দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফলস্বরূপ যাঁরা চড়া দামে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা বর্তমানে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তা আউন্স প্রতি প্রায় ৪,২২২ ডলারে অবস্থান করছে। দেশের কমোডিটি বাজার এমসিএক্স-এ (MCX) ১০ গ্রাম সোনার দাম বর্তমানে ১,৫০,৬৭৫ টাকার আশেপাশে রয়েছে।
পতনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম কমার এই আশঙ্কার পিছনে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি দায়ী। অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে বা ডলার শক্তিশালী হলে বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে বিকল্প মাধ্যমে বিনিয়োগে বেশি উৎসাহী হন, যার প্রভাবে সোনার দর নিম্নমুখী হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুদের হার বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৩,৮৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারে নেমে আসতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন পুরনো বিনিয়োগকারীদের লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষাকৃত সস্তায় সোনা কেনার নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
