হোটেলে ১৪ বছরের ছেলেকে যৌন নির্যাতন! মায়ের হাতেই একাধিক নির্যাতনের স্বীকারোক্তি ছেলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে নিজের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অ্যামি লুইস সোর্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই নারী নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানকে অন্য পরিবারে দত্তক দেওয়ার পর ফেসবুকের মাধ্যমে তার সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন। এরপর একটি হোটেলে দেখা করার সুযোগ নিয়ে তিনি কিশোরটির সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে তিনটি যৌন অসদাচরণের মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পেছনের নিষ্ঠুরতা ও আইনি বিচার
তদন্তে জানা গেছে, কেবল হোটেলেই নয়, এর আগেও একাধিক স্থানে ওই কিশোর তার জন্মদাত্রী মায়ের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। ২০০৮ সালে গ্র্যান্ড র্যাপিডস এবং পরবর্তীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোর তার স্কুলের কাউন্সেলরকে বিষয়টি জানানোর পর পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। আদালতের শুনানিতে আসামী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, অ্যামি লুইস তার সন্তানের মধ্যে কোনো মাতৃত্বের টান নয়, বরং তাকে প্রেমিক হিসেবে দেখেছিলেন, যা বিচারক ও উপস্থিত চিকিৎসকদের হতবাক করে দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও দণ্ডাদেশ
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে এবং প্রতিটি সংস্কৃতিতেই একে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিচারের এক পর্যায়ে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন অ্যামি লুইস। কিশোর সন্তানকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিব্রত না করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই অপরাধের কথা কবুল করেন। আদালত তাকে ৯ থেকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রায় ঘোষণার পর তিনি তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেও তাকে দীর্ঘ মেয়াদের কারাবাস কাটাতে হচ্ছে।
এক ঝলকে
- দত্তক দেওয়া ১৪ বছরের ছেলেকে ফেসবুকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে হোটেলে যৌন হেনস্থা করেন মা অ্যামি লুইস সোর্ড।
- স্কুল কাউন্সেলরের কাছে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অভিযোগ জানায় ভুক্তভোগী কিশোর।
- অপরাধ স্বীকার করার পর আদালত অভিযুক্ত নারীকে ৯ থেকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
- মিশিগানের এই ঘটনাটিকে চিকিৎসকরা মানবিক সম্পর্কের চরম অবক্ষয় ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
