১৬ দিনেই বিপদ! ট্রাম্পকে কি নতজানু হতে হবে ইরান ইস্যুতে?

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। বাইরের চাপ সামলানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইনি মারপ্যাঁচে এখন বড় ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হোয়াইট হাউসকে এখন কৌশলী অবস্থানে যেতে হচ্ছে।
কোণঠাসা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতার লড়াই
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের লাগাম টেনে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের অভিযোগ, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কোনো ধরনের পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের এই একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করতেই সিনেটে ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন সক্রিয় করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি প্রেসিডেন্টের জন্য একটি বড় আইনি ফাঁদ, যার মাধ্যমে তার সামরিক অভিযানে সীমাবদ্ধতা তৈরি করা সম্ভব।
‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ ও ১৫ দিনের ডেডলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি আইন। এই আইনের নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ইতোমধ্যে ৪৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। সেই হিসেবে ট্রাম্পের হাতে অবশিষ্ট সময় মাত্র ১৫ দিন। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের নেতৃত্বে এই সামরিক অভিযানের লাগাম টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধান বা চুক্তি না হলে প্রেসিডেন্টকে হয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে, নতুবা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।
ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ পরিকল্পনা ও ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে ডেমোক্র্যাটরা মোট ১০টি পৃথক প্রস্তাব বা রেজোলিউশন প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের কৌশল হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দ্রুত শান্ত না হয়, তবে প্রতি সপ্তাহে একটি করে নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এর ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী দুই দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই আশ্বাসে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
রিপাবলিকানদের প্রতিক্রিয়া
এত কঠোর চাপের মধ্যেও ট্রাম্পের পাশে অবিচল অবস্থানে রয়েছে রিপাবলিকান শিবির। রিপাবলিকান নেতা জন থিউনের দাবি, ট্রাম্পের ইরান মিশন এখন পর্যন্ত সফল এবং খুব দ্রুতই তিনি একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাবেন। রিপাবলিকানদের মতে, প্রেসিডেন্টের একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপ রয়েছে এবং এই মুহূর্তে সংসদের বাড়তি হস্তক্ষেপ কেবল দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই জটিল করবে। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই লড়াইয়ের শেষ পর্যন্ত কী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
সংকটের কেন্দ্রে: ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ আইনের কারণে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা আইনি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে।
সময়সীমা: মার্কিন আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হাতে সময় বাকি আছে মাত্র ১৫ দিন।
আইনি চাপ: প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করতে ডেমোক্র্যাটরা ১০টি বিশেষ প্রস্তাব তৈরি করেছেন।
সম্ভাব্য সমাধান: দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়াতে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সাথে আলোচনার পথ খোঁজা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: সামরিক সংঘাতের ৪৫ দিন পার হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে রয়েছেন।
