৩০০ টাকার দিনমজুর থেকে কোটিপতি! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে ধৃত পরিতোষের উল্কাগতিতে উত্থানে স্তম্ভিত এলাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উই ধরা টাকার সুটকেস এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কানকাটা দেবু’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী পরিতোষ দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামের দত্তপাড়ার বাসিন্দা, বছর চল্লিশের পরিতোষের এই আকস্মিক ও অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থান তদন্তকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চমকে দিয়েছে। পেশায় সামান্য তাঁত শ্রমিকের সন্তান পরিতোষ মাত্র এক দশকের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, যা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল।
উত্থানের নেপথ্যে ঠিকাদারি ও রহস্যময় প্রতিপত্তি
তদন্তে জানা গেছে, মাত্র ৩০০ টাকা রোজ মাইনের দিনমজুর হিসেবে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিলেন পরিতোষ। পরবর্তীকালে তিনি ‘দত্ত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি এজেন্সি খুলে নির্মাণ, রঙ ও ফার্নিচারের ঠিকাদারি শুরু করেন। মূলত সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভেন্ডর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ধৃতের পরিবারের দাবি, কানকাটা দেবুর সঙ্গে কমিশনের ভিত্তিতে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছিল পরিতোষের। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই কলেজের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার এবং বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। সম্প্রতি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিলাসবহুল জীবন ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
পরিতোষের এই উল্কাগতির উত্থানের প্রভাব দৃশ্যমান তাঁর বিপুল সম্পত্তিতে। সিঙ্গি গ্রামে তাঁর চারটি বাড়ি, ঢোকার মুখে কোটি টাকার বিলাসবহুল লজ এবং হুগলির কোন্নগরে একটি প্রিমিয়াম ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এই বিপুল আয়ের উৎস নিয়ে স্থানীয় স্তরে গোপনীয়তা ছিল। এলাকায় তিনি ‘পরোপকারী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন; দুটি মন্দির নির্মাণ এবং দরিদ্রদের অর্থ সাহায্য করে নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতেন। এই গ্রেপ্তারের ফলে একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক আঁতাতের অন্ধকার দিকটি পুনরায় সামনে এসেছে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় দাতব্য কাজের আড়ালে কালো টাকা সাদা করার ও প্রভাবশালী অপরাধীদের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
