৩৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার শুভসূচনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্কটল্যান্ড। হাইতিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করল স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ ৩৬ বছরের জয়ের খরা কাটাল স্কটিশরা। দিনের অন্য ম্যাচে শক্তিশালী রক্ষণভাগের ওপর ভর করে তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া হাইতি মাঠের লড়াইয়ে মোটেও পিছিয়ে ছিল না। বল দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে স্কটল্যান্ডের চেয়ে তুলনামূলক এগিয়ে ছিল লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। তবে আক্রমণভাগের ফুটবলারদের চরম ব্যর্থতায় গোল পেতে ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের গতির বিপরীতে গিয়ে ২৮ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন স্কটল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিন। প্রতি আক্রমণ থেকে চমৎকার পজিশনে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। শেষবার ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে কোনো ম্যাচ জিততে না পারা স্কটিশদের এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম জয়।
স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় পুড়ল হাইতি
১৯৭৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে আসা হাইতি প্রথম ম্যাচেই ঐতিহাসিক এক রাত উপহার দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল। দলটির মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিলেও ফরোয়ার্ড লাইনের ফিনিশিং দুর্বলতায় তা ভেস্তে যায়। একাধিকবার স্কটিশ ডিফেন্স ভেঙে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকলেও কাজের কাজ করতে পারেনি হাইতির স্ট্রাইকাররা। ফলে ম্যাচজুড়ে বেশি আক্রমণ করেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। তবে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে পাসিং, অফ দ্য বল মুভমেন্ট ও আক্রমণের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে উভয় দলকেই আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।
ডিফেন্সের জাদুতে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ পয়েন্ট
দিনের অপর ম্যাচে তুরস্কের আক্রমণাত্মক ফুটবলকে নিষ্ক্রিয় করে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ২৭ মিনিটে তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কৌশলী ভূমিকা নেয় অজিরা। গোল হজম এড়াতে নিজেদের বক্সে প্রায় সাত-আটজন ফুটবলার নিয়ে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলে অস্ট্রেলিয়া। তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ অজি ডিফেন্সের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর ৭৫ মিনিটে চমৎকার এক প্রতি আক্রমণ থেকে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে কনর মেটকাফে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। তুরস্ক ভালো ফুটবল খেলেও অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে না পারার খেসারত দিয়ে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
