৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে থাবা আদানির! ভারতে তৈরি হবে ‘নেক্সট-জেন’ AI হার্ডওয়্যার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টেক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির জয়জয়কারের মাঝেই ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশের মাটিতেই এবার তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক এআই হার্ডওয়্যার এবং ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো। এই মহৎ লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন উৎপাদনকারী জায়ান্ট ‘জাবিল ইনকরপোরেটেড’ (Jabil Inc.)-এর সঙ্গে এক মেগা কৌশলগত জোট বাঁধার ঘোষণা করেছে আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (AEL)। আদানি গ্রুপের এই পদক্ষেপ ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এআই হার্ডওয়্যার উৎপাদন ও রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করে তুলবে।
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সাত বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এআই পরিকাঠামোর বাজার মূল্য রেকর্ড ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আদানি ও জাবিলের এই যুগান্তকারী পার্টনারশিপ সরাসরি সেই বিশাল বাণিজ্যিক ক্ষেত্রকেই পাখির চোখ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় লিকুইড-কুলড এআই র্যাক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সার্ভার, কুল্যান্ট ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিট (CDU) এবং পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিটের (PDU) মতো নেক্সট-জেনারেশন বা পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে। ফলে কোনো বহিরাগত দেশের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড হার্ডওয়্যার সমাধান দেওয়া সম্ভব হবে।
এই বিশাল পদক্ষেপটি আদানি গ্রুপের সেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের মেগা বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির অংশ। গ্রুপটি ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতে ৫ গিগাওয়াট সম্পন্ন, সম্পূর্ণরূপে সবুজ বিদ্যুৎ চালিত হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি করতে চায়, যেখানে জাবিলের ৬০ বছরের কারিগরি দক্ষতা এক বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি বলেন, “পৃথিবী এখন ইন্টেলিজেন্স রেভোলিউশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যে সমস্ত দেশ নিজেদের বিদ্যুৎ শক্তির সাথে আধুনিক কম্পিউটিং পরিকাঠামোর মেলবন্ধন ঘটাতে পারবে, তারাই আগামী দিনের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। এই জোট ভারতকে কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে এআই পরিকাঠামো নির্মাণকারী ও রপ্তানিকারকের আসনে বসাবে।” অন্যদিকে জাবিলের সিইও মাইক দস্তুর জানান, ভারতের দক্ষ যুবসমাজ এই ধরণের উচ্চ প্রযুক্তির জন্য আদর্শ এবং এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্বপ্নকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে বাইরে থেকে প্রযুক্তি আমদানির খরচ যেমন কমবে, তেমনই ভারতের প্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
