৪০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে কেন দেশে ফিরলেন এই তরুণ? শুনলে চমকে যাবেন আপনিও!

৪০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে কেন দেশে ফিরলেন এই তরুণ? শুনলে চমকে যাবেন আপনিও!

লন্ডনের ৪০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরলেন মানব শাহ, কেন নিলেন এই সাহসী সিদ্ধান্ত?

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি এবং বিলাসবহুল জীবন বেশিরভাগ মানুষের কাছেই এক আরাধ্য স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্নের সেই ক্যারিয়ার হাতের মুঠোয় থাকার পরেও কেউ যখন স্বেচ্ছায় তা বর্জন করেন, তখন তা সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রতি মানব শাহ নামের এক যুবকের কাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লন্ডনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) মতো প্রতিষ্ঠানে বছরে ৪০ লাখ টাকার প্যাকেজের কাজ ছেড়ে তিনি পাকাপাকিভাবে ফিরে এসেছেন ভারতে।

কেন লন্ডনের চাকরি ছাড়লেন মানব?

পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট মানব শাহ লন্ডনে বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ভালো বেতন, উন্নত জীবনযাত্রা এবং বন্ধুদের সান্নিধ্যে তার দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দীর্ঘ সময়ের পর এই রুটিনমাফিক জীবন তার কাছে একঘেয়ে এবং বন্দিত্বের মতো মনে হতে শুরু করে। ৯টা থেকে ৫টার গণ্ডিবদ্ধ চাকরিতে সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। নিজের কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই তিনি আয়ের চেয়ে মানসিক তৃপ্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একাকীত্ব ও শেকড়ের টান

বিদেশে বসবাসের সময় মানব সবচেয়ে বেশি অভাব বোধ করেছেন পরিবার ও বন্ধুদের। তার মতে, প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে অর্থ উপার্জনের নেশায় মানুষ মূলত নিজের আবেগীয় চাহিদাগুলো উপেক্ষা করে। বিদেশের আধুনিক জীবনযাত্রায় বন্ধুদের সাথে প্রাণখোলা আড্ডা বা পরিবারের সান্নিধ্যের অভাব পূরণ করা আসাম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, মোটা অঙ্কের বেতন কখনোই একাকীত্ব দূর করতে কিংবা মানসিক প্রশান্তি দিতে সক্ষম নয়।

দেশে ফেরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা

শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেননি মানব। তিনি দেশে ফিরে আসার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কিছু কারণও তুলে ধরেছেন:

  • বিদেশের তুলনায় ভারতে জীবনযাত্রার খরচ অনেক কম, যা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
  • দেশের মাটিতে পরিবারের সাহচর্যে থেকে কাজ করার ফলে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে কাজের দক্ষতা বাড়ায়।
  • নিজ দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অনেক বেশি সহজলব্য।

ক্যারিয়ারের নতুন মোড় ও রিহ্যাবন্ডের সূচনা

লন্ডনের সুনিশ্চিত জীবন ছেড়ে মানব বর্তমানে ভারতে এসে ‘Rehabond’ (রিহ্যাবন্ড) নামে নিজস্ব একটি স্টার্টআপ শুরু করেছেন। ভারতে ক্রমবর্ধমান উদ্যোক্তা বান্ধব বাজার কাঠামো তাকে সাহস জুগিয়েছে। নিজের দেশে থেকে কাজ করে যে আত্মতৃপ্তি তিনি পাচ্ছেন, তা বিদেশের উচ্চমূল্যের চাকরিতে পাওয়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড়

মানবের এই ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ বা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ইন্টারনেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একটি অংশ তার এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলছেন, জীবনের প্রকৃত সার্থকতা কেবল ব্যাংকের ব্যালেন্সে নয়, বরং আত্মিক সুখের মধ্যেই নিহিত। অন্যদিকে, অনেকের অভিমত, সবার আর্থিক সামর্থ্য বা পারিবারিক পরিস্থিতি সমান নয়, তাই সবার পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে ক্যারিয়ার সচেতন তরুণ প্রজন্মের কাছে মানবের এই সিদ্ধান্ত নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • নাম: মানব শাহ (পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট)।
  • কর্মক্ষেত্র: লন্ডনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (NHS) কর্মরত ছিলেন।
  • পরিত্যাগকৃত স্যালারি: বার্ষিক প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
  • বর্তমান উদ্যোগ: ভারতে ফিরে ‘Rehabond’ নামক স্টার্টআপ পরিচালনা করছেন।
  • প্রধান কারণ: প্রবাস জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অর্জন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *