৪২ দপ্তর সামলাচ্ছেন একা শুভেন্দু, কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে বাংলার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন? – এবেলা

৪২ দপ্তর সামলাচ্ছেন একা শুভেন্দু, কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে বাংলার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে ব্রিগেডের ময়দানে রচিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণের পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও নবান্নের করিডোরে এখন এক অদ্ভুত প্রশাসনিক ছবি দৃশ্যমান। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুদায়িত্ব সহ এক অবিশ্বাস্য ৪২টি সরকারি দপ্তর বর্তমানে একা হাতে সামলাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মাত্র ৫ জন মন্ত্রী। তবে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ঘটতে চলেছে নবান্নের মেগা রদবদল।

দিল্লির সবুজ সংকেত ও ছুটির দিনের ম্যারাথন বৈঠক

বিরোধী শিবির যখন এই বিলম্বকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মতপার্থক্য বলে প্রচার করতে ব্যস্ত, তখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে উঠে আসছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তত্ত্ব। শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনও দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নয়, বরং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত কৌশলগত পদক্ষেপ। রাজ্য মন্ত্রিসভার এই বিস্তৃতির নেপথ্যে রয়েছে নিখুঁত সমীকরণের অঙ্ক। নতুন মন্ত্রীদের চূড়ান্ত খসড়া তালিকাটি বর্তমানে অনুমোদনের জন্য দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের টেবিলে রয়েছে। ২৯ মে শুক্রবারের মধ্যেই দিল্লি থেকে সেই হাই-প্রোফাইল সবুজ সংকেত ও চূড়ান্ত বার্তা কলকাতায় এসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

দিল্লির নির্দেশিকা হাতে পাওয়া মাত্রই আগামী শনি ও রবিবার কলকাতায় ম্যারাথন বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। এই দুই দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই ঠিক হবে কার কাঁধে কোন দায়িত্ব যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক পুরস্কারের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা।

সামাজিক ও ভৌগোলিক ভারসাম্যের নতুন অঙ্ক

তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণেই কোনও ভুল পদক্ষেপ করতে নারাজ। এই বিলম্বের মূল কারণ হলো এমন একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা দেবে। নতুন তালিকায় একাধারে যেমন ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ছোঁয়া থাকবে, তেমনই থাকবে ভৌগোলিক ভারসাম্যের বিশেষ সমীকরণ। উত্তরবঙ্গ, আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের নগরকেন্দ্রিক এলাকা—এই তিন অঞ্চলকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একদিকে যেমন প্রশাসনে গতি আনতে আগ্রাসী তরুণ মুখদের আনা হচ্ছে, তেমনই মসৃণভাবে সরকার চালাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মেধা সম্পন্ন নেতাদের। গত ৯ মে যখন শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ৫ সহযোগীকে নিয়ে শপথ নেন, তখন মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসনের চাকা সচল করা। এবার সেই একক সৈনিক শুভেন্দু নিজের ক্ষমতা বিকেন্দ্রেীকরণের জন্য প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহেই সম্ভবত বাংলা দেখতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকারের আসল এবং পূর্ণাঙ্গ রূপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *