‘বার্নল’ বিতর্কে কমিশন ও পদ্মকে কড়া তোপ মমতার!

‘বার্নল’ বিতর্কে কমিশন ও পদ্মকে কড়া তোপ মমতার!

দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র বিতর্কিত পোস্ট, নির্বাচন কমিশনের ‘বার্নল দাওয়াই’ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও)-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই পোস্টে পরোক্ষভাবে ভীতি প্রদর্শনকারীদের উদ্দেশ্যে ‘বার্নল ও বোরোলিন’ মজুত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিইও-র বিতর্কিত বার্তা
গত সোমবার দক্ষিণ কলকাতার ডিইও নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অসামাজিক ব্যক্তি ও ‘ভীতি প্রদর্শনকারীদের’ সতর্ক করা হয়েছে। তিনি লেখেন, “নিজেদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল এবং বোরোলিন মজুত রাখুন। উত্তাপ এতটাই মারাত্মক হবে যে, আপনারা ভেতর থেকে জ্বলে পুড়ে যাবেন।” এই পোস্টটি নির্বাচনী আধিকারিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও কমিশনের অবস্থান
তমলুকের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশন এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারে কি? এর অর্থ কী?” তাঁর অভিযোগ, ভোট জিততে বিজেপি সরাসরি কমিশন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। শাসকদলের মতে, এই ধরণের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে পারে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক চাপে পড়ে নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ডিইও-এর কাছ থেকে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অভিযোগের সমীকরণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবলমাত্র কমিশন নয়, বিজেপি ও সিপিএমকেও একযোগে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সিপিএম ও বিজেপিকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “ইডির হাত থেকে বাঁচতেই অনেক সিপিএম নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।” ভোটারদের সচেতন করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলার মানুষ বিরোধীদের এই আঁতাত ও কৌশল ইতিমধ্যেই ধরে ফেলেছে।

এক ঝলকে

  • বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বার্নল-বোরোলিন’ সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি পোস্ট।
  • তৃণমূলের অভিযোগ: ডিইও-র মন্তব্যকে পক্ষপাতমূলক ও ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে কমিশনে নালিশ শাসকদলের।
  • কমিশনের পদক্ষেপ: বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
  • মমতার সুর: কমিশন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
  • অভিযোগের তীব্রতা: পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি ও বিরোধীদের রাজনৈতিক আঁতাত নিয়ে রাজ্যজুড়ে চড়ছে উত্তাপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *