ইগো ছাড়ুন, ১৫ দিন জান লড়িয়ে দিন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: রণকৌশল চূড়ান্ত করতে তৃণমূলের মেগা বৈঠক, বার্তা দিলেন অভিষেক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। আসন্ন এই নির্বাচনী লড়াইকে পাখির চোখ করে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংগঠনিক ভিত মজবুত করা এবং নির্বাচনের ঠিক আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে দলের রণকৌশল সাজাতে মঙ্গলবার এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলের অন্দরে থাকা ছোটখাটো মান-অভিমান মুছে ফেলে কর্মীদের একজোট করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
একতার ডাক ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিরসন
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় ‘ইগো’ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক অহংকার বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে টিকিট বণ্টন কিংবা এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দেয়, তা নিয়ন্ত্রণে এই কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিন ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে প্রত্যেক কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে।
ভার্চুয়াল মঞ্চে শক্তির মহড়া
এদিনের এই মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন প্রায় ৩০ হাজার তৃণমূল প্রতিনিধি। মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের তৃণমূল স্তরের নেতৃত্বকে চাঙ্গা করতেই এই বিপুল জনশক্তির আয়োজন করা হয়েছিল। এই তালিকায় ছিলেন:
- মনোনয়ন পাওয়া সব প্রার্থী এবং বর্তমান সাংসদগণ।
- সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ও মুখপাত্ররা।
- জেলার পরিষদ সদস্য এবং পুরসভার কাউন্সিলরগণ।
- বুথ স্তরের এজেন্ট এবং নিচুতলার দলীয় কর্মীরা।
ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা খারিজ করে দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দিলেও তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বিজেপি। এক্ষেত্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৬-এ তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। তবে এই আত্মবিশ্বাস বজায় রাখলেও তিনি কর্মীদের সতর্ক করেছেন যেন তা আত্মতুষ্টিতে রূপ না নেয়। প্রতিটি কর্মীর কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আইপ্যাক ও কেন্দ্রীয় সংস্থা প্রসঙ্গ
আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের ইডি গ্রেফতারি নিয়ে সরব হন অভিষেক। তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, ভয় দেখানোর এই নীতি তৃণমূলকে আরও বেশি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলবে। এছাড়াও মালদা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ভোটারদের সতর্ক করে তিনি জানান, কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অর্থ পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সাহায্য করা। পাশাপাশি এনআরসি ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনের আগে ৩০ হাজার কর্মীকে নিয়ে অভিষেকের ভার্চুয়াল বৈঠক।
- ব্যক্তিগত ইগো ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে আগামী ১৫ দিন ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের নির্দেশ।
- কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার ও ফাঁকিবাজিতে শাস্তির কড়া হুঁশিয়ারি।
- ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে জয়ের দাবি।
- কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীদের ‘বিজেপির বি-টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করে তৃণমূলের কৌশল স্পষ্টীকরণ।
