পরকীয়ার চরম পরিণতি! ভাগ্নের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গৃহবধূ, শাশুড়িকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

লখনউয়ের ইব্রাহিমগঞ্জ গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা পারিবারিক সম্পর্কের অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতার এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় শাশুড়িকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অবৈধ সম্পর্কের জেরে খুনের ছক
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত পুত্রবধূ শালিনীর সঙ্গে তার স্বামী মনোজ রাওয়াতের আপন ভাগ্নে করণের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে করণের ইরাক থেকে ফেরার পর তাদের ঘনিষ্ঠতা আরও বৃদ্ধি পায়। পরিবারের বড় সদস্য হিসেবে শাশুড়ি শান্তি দেবী (৬৫) বিষয়টি টের পেয়ে যান এবং তাদের বারবার সতর্ক করেন। সম্পর্কের পথে শাশুড়িকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন শালিনী ও করণ।
বারবার হত্যার প্রয়াস ও চূড়ান্ত পরিণতি
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তি দেবীকে খুনের পরিকল্পনাটি ছিল সুপরিকল্পিত। ঘটনার ১০ দিন আগেও শালিনী শাশুড়ির চায়ের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়েছিলেন, কিন্তু শান্তি দেবী পূর্ণ চা না খাওয়ায় সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ৫ এপ্রিল আটার সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে রুটি তৈরি করেন শালিনী। সেই বিষাক্ত খাবার খেয়েই শান্তি দেবীর মৃত্যু হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শালিনী স্বীকার করেছেন যে, প্রেমিক করণের পরামর্শেই তিনি এই জঘন্য কাজ করেছেন যেন নির্বিঘ্নে তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।
জটিল রহস্যের উন্মোচন
শাশুড়ির দাফনের পর স্বামী মনোজের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে ঘর পরিষ্কার করার সময় তিনি একটি প্যাকেটে অবশিষ্ট বিষাক্ত রুটি খুঁজে পান। গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে সালিশি সভায় এক নাবালকের বয়ান পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই নাবালক জানায়, শালিনী তাকে টাকা দিয়ে কীটনাশক কিনে আনতে পাঠিয়েছিল। চাপের মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন অভিযুক্ত শালিনী।
পুলিশ বর্তমানে মৃত শান্তি দেবীর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ভিসেরা ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শালিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তার প্রেমিক করণ ঘটনার পর থেকেই পলাতক। পুলিশ করণের খোঁজে জোরালো তল্লাশি চালাচ্ছে।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: ইব্রাহিমগঞ্জ গ্রাম, কাকোরি থানা এলাকা, লখনউ, উত্তরপ্রদেশ।
- মূল অভিযুক্ত: পুত্রবধূ শালিনী (গ্রেপ্তার) এবং তার প্রেমিক ও স্বামী মনোজের ভাগ্নে করণ (পলাতক)।
- হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি: আটার সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে রুটি তৈরি করে শাশুড়িকে খাওয়ানো।
- খুনের উদ্দেশ্য: পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা অপসরণ করা।
- বর্তমান আইনি অবস্থা: অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং সত্য উদঘাটনে মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।
