তারেক জমানায় ছায়ানটের সুর, মৌলবাদ বনাম নতুন বছরের লড়াই!

তারেক জমানায় ছায়ানটের সুর, মৌলবাদ বনাম নতুন বছরের লড়াই!

১৪৩৩ বঙ্গাব্দ: তারেক আমলের প্রথম বর্ষবরণে অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম প্রভাতে নতুন বছরে পা দিল বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হলো নতুন বছরকে। এবারের বর্ষবরণ ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই নতুন সরকারের আমলের প্রথম নববর্ষ উদযাপন।

ঐতিহ্য ও শঙ্কার ঊর্ধ্বে বর্ষবরণ

কিছুদিন আগে ছায়ানট ভবনে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা ও প্রতিকূলতাকে জয় করেই এবার ছায়ানটের সুরের মূর্ছনায় বরণ করে নেওয়া হয়েছে নতুন বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করেছে। ঢাকের তালে, বর্ণিল মোটিফ এবং শিল্পকর্মের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন আপামর মানুষ। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ।’

নাম বিতর্ক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

অতীতে ইউনুসের শাসনামলে কট্টরপন্থীদের চাপে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার ঘটনা ঘটেছিল। তবে বর্তমান সরকার গঠনের পর এই বিতর্ক ছাপিয়ে এক অসাম্প্রদায়িক চিত্র দেখা গেল। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারিভাবে কোনো বিতর্কে না গিয়ে বরং ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই উৎসবে শামিল হয়েছেন তারা। এটি বর্তমান সরকারের নমনীয় অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের বার্তা

নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সংকট ও সংঘাতের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবকল্যাণের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন। শান্তি ও সহমর্মিতার অঙ্গীকারই যেন বর্তমান বর্ষবরণের মূল সুর।

এক ঝলকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণ

  • শোভাযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে চারুকলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ।
  • মূল প্রতিপাদ্য: ‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ।’
  • সাংস্কৃতিক প্রতীক: শোভাযাত্রায় হাতি, মোরগ, পায়রা ও টেপা পুতুলের মতো বিভিন্ন মোটিফ প্রদর্শিত হয়েছে।
  • ছায়ানটের অংশগ্রহণ: ছায়ানট ভবনে হামলার ক্ষত কাটিয়ে সাহসিকতার সাথে নববর্ষের সংগীত পরিবেশনা।
  • সরকারের অবস্থান: নাম নিয়ে বিতর্কের চেয়ে ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িক উদযাপনের দিকেই অধিক গুরুত্ব প্রদান।
  • শান্তির আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সংকীর্ণতা বর্জন করে মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার আহ্বান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *