কিডনি বিকল হওয়ার ৫ সংকেত, আজই সতর্ক না হলে বিপদে পড়বেন!
কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণসমূহ: অবহেলাই ডেকে আনে বড় বিপদ
কিডনি রোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক বলা হয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, কিডনি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অকেজো না হওয়া পর্যন্ত শরীর বড় কোনো সংকেত দেয় না। ফলে রোগীরা অনেক সময় শেষ পর্যায়ে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তবে সচেতন হলে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
শরীরের জল ও সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখার মূল কাজ করে কিডনি। যখন কোনো কারণে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হারায়, তখন শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বের হতে পারে না। এই বাড়তি জল শরীরে জমতে শুরু করে, যার ফলে পা, গোড়ালি, এমনকি মুখ ও চোখের চারপাশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় ‘এডিমা’। এটি কিডনির সক্ষমতা হ্রাসের একটি দৃশ্যমান লক্ষণ।
প্রস্রাবের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
কিডনির স্বাস্থ্যের বড় একটি সূচক হলো প্রস্রাব। প্রস্রাবের রঙ বা অভ্যাসে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া, যা শরীর থেকে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার একটি বড় ইঙ্গিত।
- প্রস্রাবের রঙ কালচে বা লালচে হওয়া, যা রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে।
- ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলায় এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
অসহ্য ক্লান্তি ও দুর্বলতা
স্বাভাবিক কিডনি ‘এরিথ্রোপয়েটিন’ নামক এক ধরনের হরমোন উৎপাদন করে, যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে এই হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে শরীরে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মানুষ অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠে এবং সারাক্ষণ প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করে।
ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি
রক্তে খনিজ ও পুষ্টির ভারসাম্য হারানো শরীরের ভেতর বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন জমা হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যখন কিডনি রক্ত পরিশোধন করতে পারে না, তখন রক্তে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ জমে যায়। এই বিষাক্ত উপাদানের প্রতিক্রিয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং সারা শরীরে তীব্র চুলকানি অনুভূত হতে পারে।
খাবারে অরুচি ও বমি ভাব
শরীরে বিষাক্ত বর্জ্যের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এতে রোগী খাবারের প্রতি চরম অরুচি বোধ করেন। এর পাশাপাশি সারাক্ষণ বমি বমি ভাব বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্বস্তি বোধ করা কিডনি সমস্যার অন্যতম সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।
এক ঝলকে
- কিডনি রোগ নীরব ঘাতক, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ধরা কঠিন।
- পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া এডিমা বা ফ্লুইড রিটেনশনের লক্ষণ।
- প্রস্রাবে ফেনা বা রক্তের উপস্থিতি কিডনি অকেজো হওয়ার সতর্কবার্তা।
- হরমোনের অভাবে রক্তাল্পতা দেখা দেয়, যা ক্লান্তি ও দুর্বলতার কারণ।
- রক্তে বর্জ্য জমলে ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুলকানি ও অরুচি দেখা দেয়।
