বিলাসবহুল হোটেলের বিল মেটানোর টাকাও নেই, দেউলিয়া পাকিস্তানের কি এই হলো দশা!

অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তান: ইসলামাবাদে আয়োজিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠকের খরচ মেটাতে হিমশিম প্রশাসন
দুদিকের প্রবল টানাপোড়েন আর যুদ্ধের আবহে শান্তি আলোচনার জন্য মঞ্চ তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানে। কিন্তু সেই বৈঠকের আয়োজন করতে গিয়েই নতুন করে সামনে এল শাহবাজ শরিফ সরকারের আর্থিক দৈন্যদশা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গুরুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, দেশের টালমাটাল অর্থনীতি যে কতটা শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে, তা এই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
বিলাসবহুল হোটেলেও বকেয়ার বোঝা
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল দেশের অন্যতম অভিজাত ও সুরক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আস্তানা। প্রায় ১৫ একর জমির ওপর অবস্থিত এই হোটেলের আতিথেয়তা বরাবরই ভিআইপিদের পছন্দের তালিকায় থাকে। ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠকের ভেন্যু হিসেবেও এই হোটেলটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়েই বিপাকে পড়ে পাক সরকার। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, হোটেলের পাওনা মেটাতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। শেষ পর্যন্ত হোটেলের মালিকপক্ষকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং বকেয়া মেটানোর দায়ভার তাদেরই বহন করতে হয়েছে।
ব্যর্থ শান্তি বৈঠক এবং পারমাণবিক জটিলতা
প্রায় ৪০ দিন ধরে চলমান সংঘাতের পর ইরান ও আমেরিকা দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছিল। এরই মধ্যে শান্তির পথ খুঁজতে শনিবার ইসলামাবাদে জড়ো হয়েছিলেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন আলোচনা। কিন্তু দীর্ঘ এই আলোচনার পরেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বৈঠকের পর কোনো ইতিবাচক বার্তা দেননি। আলোচনার মূল বাধা হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো লিখিত কিংবা নির্ভরযোগ্য আশ্বাস তারা দিতে পারেনি। ফলে শান্তির প্রচেষ্টা আপাতত বিশ বাঁও জলে।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিফলন
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি সামলানো, আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন—এই পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতির চাপ স্পষ্ট পাকিস্তান সরকারের ওপর। সরকারি কোষাগারে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিলাসবহুল হোটেলের বিল মেটানোও যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন পাকিস্তানের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটিই ফুটে ওঠে।
এক ঝলকে
- ভ্যেনু: ইসলামাবাদের অভিজাত সেরেনা হোটেলে আয়োজিত হয়েছিল ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক।
- আর্থিক সঙ্কট: বৈঠকের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে ব্যর্থ হয় পাক প্রশাসন; শেষ পর্যন্ত হোটেলের মালিক নিজ উদ্যোগে খরচ বহন করেন।
- বৈঠকের ফলাফল: টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরেও ইরান-আমেরিকা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ।
- মূল বাধা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের অনড় অবস্থান।
- মার্কিন অবস্থান: ইরানের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস হলেও, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছে না আমেরিকা।
