বিয়ের তিন বছরেই রক্তক্ষয়ী পরিণতি, শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা পরিযায়ী শ্রমিকের

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পারিবারিক বিবাদের জেরে বছর পঁচিশের মাজিমা খাতুনকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে পাথর দিয়ে মুখ থেঁতলে খুন করেছে তাঁর স্বামী শেখ ইস্তামুল। সোমবার ভোররাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বেজপুরায় মাজিমার বাপের বাড়িতে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে ইস্তামুলের সঙ্গে মাজিমার বিয়ে হলেও প্রথম থেকেই তাঁদের দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক ইস্তামুল জয়পুর থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর সেই অশান্তি চরম আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির চাপে মাজিমা কিছু দিন ধরে তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন। অভিযোগ, রবিবার মাঝরাতে ইস্তামুল সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে এই নারকীয় কাণ্ড ঘটায়। পরিবারের দাবি, মাজিমার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে পুলিশ ও এলাকায় উত্তেজনা
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শেখ ইস্তামুল এলাকা ছেড়ে পলাতক। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা গ্রাম শোকস্তব্ধ ও উত্তেজিত। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি যে এতটা বীভৎস রূপ নিতে পারে, তা দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
এক ঝলকে
- মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে নৃশংস খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।
- ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর পাথর দিয়ে মুখ থেঁতলে দেওয়া হয় ২৫ বছর বয়সী মাজিমা খাতুনের।
- বাপের বাড়িতে মাঝরাতে হানা দিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত স্বামী শেখ ইস্তামুল।
- ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক, তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
