ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হলে যে তিনি বাবা নন! সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের! – এবেলা

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হলে যে তিনি বাবা নন! সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পারিবারিক বিবাদ ও সন্তানের ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নজিরবিহীন রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং এন. কোটিশ্বর সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট শিশুর জৈবিক পিতা নন, তবে তাকে ভরণপোষণের জন্য বাধ্য করা যাবে না। আদালতের মতে, আইনি জটিলতার চেয়ে বৈজ্ঞানিক সত্যের গুরুত্ব অনেক বেশি।

ডিএনএ রিপোর্টের আইনি মর্যাদা সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ১৮৭২ সালের ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের চেয়ে আধুনিক ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল অনেক বেশি নিখুঁত। এই মামলায় বিবাহিত জীবনে সন্তানের জন্ম হলেও ডিএনএ রিপোর্ট নেতিবাচক আসায় ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যখন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং আইনি অনুমানের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, তখন বিজ্ঞানের ফলাফলকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ ২০১৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির বিবাদের জেরে মামলাটি নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, ওই ব্যক্তি শিশুটির বাবা নন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টও একই রায় দিয়েছিল, যা এবার বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে যেন শিশুটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এক ঝলকে

  • ডিএনএ পরীক্ষায় জৈবিক পিতা প্রমাণিত না হলে সন্তানের ভরণপোষণ দিতে কোনো ব্যক্তি বাধ্য নন।
  • আইনি প্রথার চেয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা ডিএনএ রিপোর্টের সত্যতাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি জানিয়েছিলেন এবং রিপোর্টের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেননি।
  • শীর্ষ আদালত ওই মহিলার আপিল খারিজ করলেও শিশুটির সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *