তিন দিনের চরম হুঁশিয়ারি! ট্রাম্পের নিশানায় এবার ইরানের তেল পাইপলাইন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম সীমায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য মাত্র তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের তেল পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান বর্তমানে তেল রপ্তানি করতে পারছে না, যার ফলে পাইপলাইনের অভ্যন্তরে অত্যাধিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এই কারিগরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অনমনীয় ইরান ও কূটনৈতিক তৎপরতা
ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। এই বার্তাকে তারা নিজেদের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাবও সামনে এনেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে পাকিস্তান, ওমান এবং রাশিয়ার সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সোমবারের বৈঠকটি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও আঞ্চলিক প্রভাব
মার্কিন-ইরান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। খবর পাওয়া গেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে ইজরায়েল সেখানে তাদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানালেও শর্ত হিসেবে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি অপরিবর্তিত রেখেছেন।
এক ঝলকে
- যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে ইরানকে মাত্র ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের প্রধান তেল পাইপলাইন ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ইরান কোনো সমঝোতা না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
- উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারের উপরে পৌঁছেছে।
