বাণিজ্যিক কূটনীতিতে ভারতের বাজিমাত, নিউজিল্যান্ডের বাজারে ১০০ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ববাণিজ্যের মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করল ভারত। দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এর ফলে নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি হওয়া শতভাগ ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক বাজারে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল।
রপ্তানি বৃদ্ধি ও কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা
এই চুক্তির ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারতের উৎপাদন খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ, কোকিং কোল এবং ধাতব বর্জ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেশাদারদের সুযোগ ও কৃষকদের সুরক্ষা
বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি ভারতীয় পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই চুক্তি বড় সুযোগ বয়ে এনেছে। আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ১১৮টি ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগের পাশাপাশি প্রতি বছর অন্তত ৫,০০০ ভারতীয় পেশাদার নিউজিল্যান্ডে কাজের সুযোগ পাবেন। তবে বড় এই চুক্তিতেও দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। ডেইরি পণ্য, পেঁয়াজ, চিনি ও মশলার মতো সংবেদনশীল কৃষি পণ্যগুলোকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে স্থানীয় চাষিরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও কৌশলগত সাফল্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের জন্য একটি কৌশলগত জয়। চীনকে বাদ দিয়ে ‘আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব’ (RCEP)-এর প্রায় সব দেশের সাথেই ভারতের বাণিজ্যিক গাঁটছড়া সম্পন্ন হলো। এছাড়া কৃষি ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানে দুই দেশের যৌথ ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত আপেল বা কিউই-র মতো ফলের গুণমান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, যা ভবিষ্যতে ভারতের কৃষি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।
এক ঝলকে
- নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি হওয়া ১০০% ভারতীয় পণ্যে এখন থেকে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে।
- ৫,০০০ ভারতীয় পেশাদারের জন্য অস্থায়ী ভিসা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩-৪ বছরের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকছে।
- দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষায় ডেইরি পণ্য ও সংবেদনশীল কৃষি পণ্যকে চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
- কাঠ ও কোকিং কোলের মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সস্তায় পাওয়ায় ভারতের উৎপাদন খরচ কমবে।
