বাঙালি নারীদের অপমানের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি! প্রচারের ময়দানে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রচারের উত্তাপ বাড়িয়ে দিতে ভোজপুরি অভিনেতা খেসারি লাল যাদবকে নামিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যারাকপুর ও শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় হুডখোলা গাড়িতে এই তারকার প্রচার ঘিরে সাময়িকভাবে উন্মাদনা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত তা বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রচার চলাকালীন খেসারি লালের অভিনীত একটি গানের কথা ও তাঁর শরীরী ভঙ্গি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে, যা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংস্কৃতি ও নারী অবমাননার অভিযোগ
বিতর্কের মূলে রয়েছে খেসারি লালের একটি গানের কথা, যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘এক বাঙালি মেয়ে আমার স্বামীকে কাবু করেছে’। বিজেপির অভিযোগ, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় এমন একটি গান বাজানো এবং তাতে কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করা সরাসরি বাঙালি নারীদের মর্যাদাহানি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তৃণমূল এমন এক সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে যা বাংলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারে শার্টের বোতাম খুলে নাচের দৃশ্যটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, ভোজপুরি ভাষাভাষী ভোটারদের মন জয় করতে তৃণমূল এই কৌশল নিলেও তা হিতে বিপরীত হতে পারে। খেসারি লালের মতো বিতর্কিত ভাবমূর্তির তারকাকে ব্যবহার করায় ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ এবং ‘সাংস্কৃতিক অবক্ষয়’ ইস্যুটি নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। এই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার তুলে দিল, যা তৃণমূলের নারী সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার প্রচারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিহারের রাজনীতিতে তেমন সুবিধা করতে না পারা খেসারি লালের এই উপস্থিতি বাংলার ভোটারদের ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে।
এক ঝলকে
- ব্যারাকপুর ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের প্রচারে ভোজপুরি তারকা খেসারি লাল যাদবের গান ও নাচ ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
- গানের মাধ্যমে বাঙালি নারীদের আসাম্মান করার অভিযোগে তৃণমূলকে সরাসরি বিঁধেছে বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ।
- শরীরী ভাষা এবং গানের বিতর্কিত কথার কারণে ঘটনাটিকে বাংলার সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
- নির্বাচনী আবহে এই ঘটনা তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
