সতর্ক না হলেই বিপদ! টয়লেটের চেয়েও বেশি জীবাণু ছড়াচ্ছে ঘরের এই ৩টি জিনিস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুস্থ থাকার তাগিদে আমরা টয়লেট বা শৌচাগার পরিষ্কার রাখার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকলেও ঘরের অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রে বেশ উদাসীন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সাধারণ মানুষকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের নিত্যব্যবহার্য এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা টয়লেট সিটের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর জীবাণু বহন করে। সঠিক পরিষ্কারের অভাবে এসব সাধারণ বস্তু থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক সংক্রমণ।
রান্নাঘরের স্পঞ্জ ও কিচেন সিঙ্ক
গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নাঘরের যে স্পঞ্জ বা স্ক্রাবার দিয়ে আমরা থালা-বাসন পরিষ্কার করি, সেটিই আসলে জীবাণুর প্রধান আস্তানা। টয়লেটে সাধারণত ৩-৪ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকলেও একটি ব্যবহৃত স্পঞ্জে প্রায় ৩৬০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। স্পঞ্জের আর্দ্রতা এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ এটিকে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের আদর্শ স্থানে পরিণত করে। একইভাবে কিচেন সিঙ্ক এবং সবজি কাটার বোর্ডে সালমোনেলার মতো বিপজ্জনক জীবাণু বাসা বাঁধে, যা সরাসরি খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
স্মার্টফোন এবং রিমোটের ব্যবহার
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাথরুম থেকে বিছানা পর্যন্ত সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনে টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া থাকে। স্মার্টফোনের পাশাপাশি টিভির রিমোটও অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে আসায় এটি জীবাণুর হটস্পটে পরিণত হয়। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করলেও এই ডিভাইসগুলো স্যানিটাইজ না করার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সুস্থ থাকতে কেবল হাত ধোয়াই যথেষ্ট নয়, বরং ঘরের এই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, রান্নাঘরের স্ক্রাবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলে ফেলা এবং স্মার্টফোন বা রিমোট ব্যবহারের পর স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নেওয়া প্রয়োজন। সামান্য অসচেতনতা থেকে পেটের অসুখসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘরের রান্নার স্পঞ্জ বা স্ক্রাবারে ৩৬০ প্রজাতিরও বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা টয়লেটের চেয়ে বেশি নোংরা।
- স্মার্টফোন এবং টিভির রিমোটে ক্ষতিকর ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
- সবজি কাটার বোর্ড ও কিচেন সিঙ্ক নিয়মিত জীবাণুমুক্ত না করলে সালমোনেলা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
- নিয়মিত হাত ধোয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গ্যাজেট ও কিচেন টুলস স্যানিটাইজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
