সন্তানহারা মায়ের লড়াই এবার ব্যালট যুদ্ধে, ভোট দিতে গিয়ে কান্নায় ভাঙলেন তামান্নার মা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত জুন মাস কেড়ে নিয়েছিল ছোট্ট তামান্নাকে। কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল একরত্তি শিশুটি। আজ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন নিজেই সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। ভোটের সকালে বুথে যাওয়ার পথে বারবার ভিড় করে আসছিল স্মৃতি। কান্নায় ভেঙে পড়ে সাবিনা বলেন, “আগেরবার মেয়ের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম।” যে সন্তানকে হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়েছিলেন, আজ সেই মেয়ের বিচার আর অধিকার আদায়ের দাবিতেই তাঁর এই রাজনৈতিক লড়াই।
শহিদকন্যার মাতা থেকে জননেত্রী
উপনির্বাচনের ফল পরবর্তী হিংসায় তামান্নার মৃত্যুর পর সাবিনাকে ‘শহিদকন্যার মাতা’ হিসেবে দলের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় বাম নেতৃত্ব। প্রচার পর্বে সাবিনা ইয়াসমিনকে দেখা গেছে অদম্য জেদ আর ইস্পাতকঠিন মানসিকতায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীদের সঙ্গে গায়ের জোরে নয়, বরং আইনের পথেই লড়াই করতে চান। সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক ময়দানের এই উত্তরণ আদতে এক বিচারহীনতার বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ। বিমান বসু থেকে শুরু করে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতৃত্বকে পাশে নিয়ে সাবিনা আজ ঘর থেকে জনপদে পৌঁছে গেছেন।
ভোটের ময়দানে প্রভাব ও বিচার পাওয়ার আশা
সাবিনা ইয়াসমিনের এই লড়াই কালীগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে এক আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর মতে, আল্লাহ আর মেয়ের আশীর্বাদই তাঁর মূল চালিকাশক্তি। স্থানীয় স্তরে এই লড়াই কেবল ক্ষমতার দখল নয়, বরং রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভোটের ময়দানে জয়ের চেয়েও সাবিনার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। এই আবেগ আর প্রতিবাদের মিশেলই তাঁকে এই নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এক ঝলকে
- ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক বোমাবাজিতে প্রাণ হারায় শিশু তামান্না।
- নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে সিপিএম।
- মেয়ের স্মৃতি ও বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করেই ভোটের ময়দানে লড়ছেন তিনি।
- রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ এবং ন্যায়ের দাবিতেই তাঁর এই সাধারণ গৃহবধূ থেকে প্রার্থী হওয়া।
