‘লোন উলফ’ হামলার ছক মুম্বইয়ে! আইসিস-এর সমর্থনে চিরকুট লিখে কেন হিন্দু রক্ষীদের ছেড়ে দিল জুবের?

‘লোন উলফ’ হামলার ছক মুম্বইয়ে! আইসিস-এর সমর্থনে চিরকুট লিখে কেন হিন্দু রক্ষীদের ছেড়ে দিল জুবের?

মুম্বাইয়ের মিরা রোডে কট্টরপন্থায় উদ্বুদ্ধ এক যুবকের ছুরি হামলার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধৃত জুবায়ের আনসারী নামের ওই যুবক নিজেকে একটি নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অনুসারী হিসেবে দাবি করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তল্লাশিতে অভিযুক্তের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা চিরকুট দেখে হতবাক তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সেখানে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবার ছেড়ে তাদের মতাদর্শে যোগ দেওয়ার উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

একাকী হামলার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, জুবায়ের কোনো গোষ্ঠীর অংশ নয় বরং ইন্টারনেটে কট্টরপন্থী প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে ‘লোন উলফ’ বা একাকী হামলাকারী হিসেবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। হামলার সময় সে দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে জখম করে এবং তাদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তমাখা হাতে জল খেতে চেয়ে সে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নিজের মতাদর্শ প্রচার করছিল। উদ্ধারকৃত ডায়েরিতে সে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধের হুমকি দিয়ে লিখেছে যে, একা নেকড়ের মতোই সে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

উগ্র মতাদর্শ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের একাকীত্ব এবং ইন্টারনেটে নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী সাহিত্যের সংস্পর্শ জুবায়েরকে মানসিকভাবে সহিংস করে তুলেছে। সে তার নোটে পরিবার ও সমাজকে তুচ্ছ করে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন বুনছিল। এই ঘটনাটি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা ডিজিটাল দুনিয়ার মাধ্যমে অজান্তেই চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না।

এক ঝলকে

  • মুম্বাইয়ের মিরা রোডে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে দুই নিরাপত্তা রক্ষীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা।
  • অভিযুক্ত জুবায়ের আনসারীর কাছ থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থনে উস্কানিমূলক চিরকুট উদ্ধার।
  • তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃত যুবক ইন্টারনেটে উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ‘লোন উলফ’ হামলা চালিয়েছে।
  • ঘটনার ভয়াবহতায় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *