পেটের দায়ে হাতে ‘বোমা’! পাকিস্তানে সিলিন্ডার নেই, প্লাস্টিকের বেলুনে ভরে রান্নার গ্যাস কিনছে মানুষ

পেটের দায়ে হাতে ‘বোমা’! পাকিস্তানে সিলিন্ডার নেই, প্লাস্টিকের বেলুনে ভরে রান্নার গ্যাস কিনছে মানুষ

পাকিস্তানের করাচি শহরে জ্বালানি সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাব এবং সরবরাহ লাইনে নিম্নচাপের কারণে অতিষ্ঠ নাগরিকরা এখন আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাজি ধরছেন। করাচির ওরাঙ্গি টাউন এবং মোমিনাবাদের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষ রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে না ভরে বড় আকারের প্লাস্টিক ব্যাগে বা বেলুনে ভরে বাড়িতে মজুত করছেন। প্রতিদিনের দুবেলা আহার নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিপজ্জনক বিকল্প ও পদ্ধতি

বাজারে সাধারণ সিলিন্ডারের অভাব এবং উচ্চমূল্যের কারণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার পাকিস্তানি রুপিতে বিশেষ ধরনের এই প্লাস্টিক ব্যাগগুলো বিক্রি হচ্ছে। যখন লাইনে গ্যাস সরবরাহ আসে, তখন এই ব্যাগগুলোতে গ্যাস ভরে মুখ আটকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রান্নার সময় ওই ব্যাগ থেকে টিউবের মাধ্যমে চুলায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। মূলত অস্থায়ী স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহৃত এই পদ্ধতিটি এখন স্থানীয়দের কাছে টিকে থাকার শেষ অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলন্ত বোমা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই প্লাস্টিক ব্যাগগুলোকে ‘চলন্ত বোমা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামান্য ঘর্ষণ, তাপ বা আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের গ্যাস সংরক্ষণ পদ্ধতি পুরো জনপদের জন্য মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ফলে পাকিস্তানে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তারই এক চরম ও নেতিবাচক বহিঃপ্রকাশ এই প্রাণঘাতী প্রবণতা।

এক ঝলকে

  • করাচিতে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে মানুষ প্লাস্টিকের বেলুনে গ্যাস ভরে মজুত করছে।
  • এই ব্যাগগুলো স্থানীয় বাজারে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
  • বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিস্ফোরণপ্রবণ বলে সতর্ক করেছেন।
  • মূলত ওরাঙ্গি টাউন ও মোমিনাবাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *