ভারতে মুখের ক্যান্সার কি মহামারীর আকার নিচ্ছে! আইসিএমআর-এর রিপোর্টে ২০৪৫ সালের ভয়ংকর পূর্বাভাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতজুড়ে পুরুষদের মধ্যে মারণ রোগ ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে মুখের ক্যান্সার। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে ভারতে পুরুষদের মধ্যে এই রোগের বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৫.৬ লক্ষ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং এর মধ্যে ৮.৭৪ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই আক্রান্তের সংখ্যা ২৪.৬ লক্ষে পৌঁছাতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত।
তামাক ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাশুল
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের লাগামহীন ব্যবহার। গুটখা, খৈনি, পান এবং সুপারি চিবানোর অভ্যাস ভারতীয় যুবসমাজকে অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি মদ্যপান এই ঝুঁকিকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। সামাজিক রীতিনীতির দোহাই দিয়ে অল্প বয়সে তামাকের নেশায় জড়িয়ে পড়া ভারতীয় পুরুষদের জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনাক্তকরণে বিলম্ব ও প্রভাব
ভারতে এই রোগটি সাধারণত একদম শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হয়, যা চিকিৎসার সাফল্যের হার কমিয়ে দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে পুরুষদের মধ্যে মুখের ক্যান্সার বাড়লেও, নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের হার ৪.১৯ শতাংশ কমেছে, যা সচেতনতা ও টিকাকরণের সুফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও তামাকের নেশা ত্যাগ না করলে আগামী দিনে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এই রোগের চাপ অসহনীয় হয়ে উঠবে।
এক ঝলকে
- ভারতে পুরুষদের মধ্যে মুখের ক্যান্সার বৃদ্ধির হার ১.২০ শতাংশ, যা চীন ও আমেরিকার চেয়েও বেশি।
- ২০৪৫ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- তামাক, গুটখা ও মদ্যপানকে এই মারণ রোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইসিএমআর।
- সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং ও সচেতনতার অভাবেই মৃত্যুর হার বাড়ছে।
