১৮ হাজার থেকে ৬৯ হাজার! অষ্টম বেতন কমিশনে কি ইতিহাস গড়বে কেন্দ্র

১৮ হাজার থেকে ৬৯ হাজার! অষ্টম বেতন কমিশনে কি ইতিহাস গড়বে কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আয়োজিত তিন দিনের ম্যারাথন বৈঠকে ন্যূনতম মূল বেতন এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, যা কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের আর্থিক অবস্থায় বড়সড় জোয়ার আসতে পারে।

বেতন বৃদ্ধিতে নতুন সমীকরণ

বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা। তবে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে কর্মচারী সংগঠনগুলো এই বেতন বাড়িয়ে ৬৯ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে। এর জন্য তারা ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকরের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বর্তমানের তুলনায় বাড়িয়ে সরাসরি মূল বেতনের ওপর ৬ শতাংশ করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্নে পুরনো পেনশন ব্যবস্থা বা ওপিএস (OPS) ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া গ্র্যাচুইটি বৃদ্ধি, অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং বর্তমানের সমস্ত ভাতাকে তিন গুণ করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত পদোন্নতির সুপারিশও রাখা হয়েছে কমিশনের কাছে।

প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির দাবি মেনে নিলে কেন্দ্রীয় কোষাগারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে ঠিকই, তবে এটি কয়েক লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীর জীবনযাত্রার মান আমূল বদলে দিতে পারে। কমিশন আপাতত ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের পরামর্শ নেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে এই সুপারিশ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে, যা ভারতের বেতন কাঠামোর ইতিহাসে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টের দাবি উঠেছে।
  • পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) ফিরিয়ে আনা ও ভাতা তিন গুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
  • আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *