শূন্য থেকে এক লাফে ১০ পার? গণনা শুরুর ঠিক আগে সিপিএম-এর আসন নিয়ে বড় ভবিষ্যৎবাণী অশোক ভট্টাচার্যের!

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত ‘খাতা খুলতে’ না পারা সিপিএম কি এবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে? সোমবারের মহাগণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বর্ষীয়ান বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়রের দাবি, এবার অন্তত ১০টির বেশি আসনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় ফের নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে লাল শিবির।
বামপন্থার পুনরুত্থান ও তৃতীয় শক্তির বার্তা
অশোক ভট্টাচার্যের মতে, এবার কেবল সিপিএম নয়, বরং বাম-কংগ্রেস ও আইএসএফ জোট মিলে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। গতবার শূন্যে নেমে যাওয়ার পর এবার তরুণ মুখদের ওপর ভরসা করেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে আলিমুদ্দিন। তিনি বলেন, “রাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থান ঘটুক এটাই লক্ষ্য। বিজেপি যাতে কোনোভাবেই ক্ষমতায় না আসতে পারে এবং গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হয়, তার জন্য সিপিএম এবার বড় ভূমিকা নেবে।” দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসনের পর বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বহীন থাকার গ্লানি এবার ঘুচবে বলে আশাবাদী এই বর্ষীয়ান নেতা।
বিজেপি ও তৃণমূলের কটাক্ষ
অশোক ভট্টাচার্যের এই ভবিষ্যদ্বাণীকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ যুযুধান দুই শিবির। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের পাল্টা খোঁচা, “১০টা কেন, সংখ্যাটা কি আরও বাড়ানো যায় না? আমরা এমন দুর্বল বামকে দেখতে চাইনি।” তাঁর দাবি, বামেরা আদতে তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেনের অভিযোগ, বিজেপিকে জেতাতে চেয়েই বামেদের আজ এই দশা। তৃণমূলের দাবি, সরকারিভাবে জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা এবং বামেদের এই আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি কার্যত ভিত্তিহীন। গণনার প্রাক্কালে বড় দুই দলের এই দ্বিমুখী আক্রমণের মাঝে বামেদের প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
