লোডশেডিং ও ইভিএম বদলের আশঙ্কা, গণনাকেন্দ্রের ট্রান্সফর্মার পাহারায় তৃণমূলের ছাত্রদল

ভোট গণনার ঠিক আগের রাতে জলপাইগুড়িতে টানটান উত্তেজনা। লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে ইভিএম চুরির আশঙ্কায় খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গণনাকেন্দ্রের বাইরের ট্রান্সফর্মার পাহারায় নেমেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) কর্মীরা। রবিবার রাত থেকেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্ট্রংরুম ও গণনাকেন্দ্র চত্বরে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেরই নজিরবিহীন নজরদারি চোখে পড়ছে।
অভিষেকের নির্দেশ ও তৃণমূলের তৎপরতা
শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেছিলেন যে, গণনার সময় পরিকল্পনামাফিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে কারচুপি করা হতে পারে। সেই নির্দেশ পাওয়ামাত্রই জলপাইগুড়ি জেলা ছাত্র পরিষদ কর্মীরা গণনাকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ ও ট্রান্সফর্মার আগলে রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন। তৃণমূলের আশঙ্কা, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিজেপি ইভিএম বদলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সিসিটিভি রুমের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি বাইরের এলাকায় নিশ্ছিদ্র পাহারা দিচ্ছে ছাত্রদল।
পাল্টা পাহারায় বিজেপির মহিলা মোর্চা
তৃণমূলের এই তৎপরতার পাল্টা হিসেবে ময়দানে নেমেছে বিজেপির মহিলা মোর্চাও। ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন বিজেপি নেত্রীরা। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, হার নিশ্চিত জেনে শেষ মুহূর্তে অসাধু উপায়ে ফলাফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে শাসকদল। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও শেষ মুহূর্তের কারচুপি রুখতে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ গেরুয়া শিবির। সোমবার সকাল থেকে গণনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই ‘পাহারাদারি’ চলবে বলে দুই পক্ষই জানিয়েছে। মূলত লোডশেডিং ও যান্ত্রিক গোলযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অবিশ্বাস গণনাকেন্দ্রের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
