বাংলায় গেরুয়া ঝড়, ঘাসফুল শিবিরে বড় ধস নামিয়ে নবান্ন দখলের পথে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বইছে গেরুয়া হাওয়া। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিগুলিতেও ধস নামতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯০টিতে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৯৭টি আসনে। বাম, আইএসএফ এবং এউজেপি প্রার্থীরা ১টি করে আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
ধসের মুখে হেভিওয়েটরা
নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী ৮ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থেকে নিজের দাপট বজায় রেখেছেন। তবে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থ রাউন্ড শেষে ১৭ হাজার ২৪৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে দলের ফলাফল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহরমপুরে দীর্ঘদিনের কংগ্রেসী গড় বলে পরিচিত অধীর চৌধুরী পিছিয়ে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থীর কাছে। একইভাবে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী এবং সুজিত বসুর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরাও আপাতত লড়াইয়ে পিছিয়ে আছেন। যদিও ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতারা ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে থেকে কিছুটা স্বস্তি বজায় রেখেছেন।
জেলাভিত্তিক ফলাফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ
জেলাভিত্তিক ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অভাবনীয় ফল করছে বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনেই পদ্ম শিবির এগিয়ে। হুগলিতে ১৮টির মধ্যে ১৬টি এবং পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এমনকি বীরভূম ও পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতেও তৃণমূল পিছিয়ে পড়ছে। এই ফলের নেপথ্যে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং মেরুকরণের রাজনীতি বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি এই ট্রেন্ড বজায় থাকে, তবে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পার করে ল্যান্ডস্লাইড জয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চালচিত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
