ছাব্বিশে বিধানসভায় কামব্যাক বামেদের? ডোমকলের কোন অঙ্কে এগিয়ে মুস্তাফিজুর

ছাব্বিশে বিধানসভায় কামব্যাক বামেদের? ডোমকলের কোন অঙ্কে এগিয়ে মুস্তাফিজুর

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর ফের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় খাতা খুলতে চলেছে সিপিআইএম। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের গণনার শুরু থেকেই মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে বাম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার টানা লিড সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর রাজ্যের কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে বামেদের এই আধিপত্য রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৃণমূলের ভাঙন ও বামেদের পুনরুত্থান

ডোমকলের নির্বাচনী লড়াইয়ে চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে সিপিআইএম প্রার্থী ৮ হাজার ৩৫৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে ডোমকলে তৃণমূল শিবিরে যে ভাঙন ধরেছিল, তার সরাসরি সুফল পেয়েছে বামেরা। শাসকদলের ঘর ভাঙার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মুস্তাফিজুরের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল—সব মিলিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

ভোটগ্রহণের দিন থেকেই ডোমকল উত্তপ্ত ছিল। কুপিলা সর্দারপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তা সত্ত্বেও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটাররা বুথমুখী হয়েছিলেন। সাধারণ ভোটারদের একাংশের অভিযোগ ছিল, বিগত নির্বাচনগুলোতে তাঁরা শাসকদলের ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেননি। তবে এবার ভোটারদের সেই ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলা এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার বিষয়টিই ইভিএমে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বামেদের লিড বজায় থাকলে তা কেবল ডোমকলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাজ্যজুড়ে ঝিমিয়ে পড়া বাম কর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে। দুপুর গড়াতেই ডোমকলের রাস্তায় লাল আবির মেখে বাম সমর্থকদের উল্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিধানসভায় ফের লাল পতাকার উপস্থিতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে মুর্শিদাবাদ। তৃণমূলের ‘ভোট মেশিনারি’ ফেল করা এবং বিরোধী ভোট একত্রিত হওয়া এই ফলের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *