মমতা ম্যাজিক কি তবে ফিকে? বাংলায় ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত!

সায়ন নস্কর, কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে ফলাফল যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই দেখা যাচ্ছে ‘ল্যান্ড স্লাইড ভিক্ট্রি’ বা ধস নামানো জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। ১৯০টি আসনে গেরুয়া শিবিরের লিড তৃণমূলের ৯৯টি আসনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই পটপরিবর্তন কেন হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোট মেশিনারি অচল ও কঠোর নিরাপত্তা
তৃণমূলের জয়ের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিরোধীরা বরাবরই তাদের নিঁখুত ভোট মেশিনারিকে দায়ী করত। তবে এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কঠোর। রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং পুলিশের অতি-সক্রিয়তা তৃণমূলের সেই স্থানীয় আধিপত্যকে খর্ব করেছে। ফলে বুথ স্তরে নিজেদের প্রভাব খাটাতে না পারাই শাসক দলের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণ ও এসআইআর ফ্যাক্টর
এই নির্বাচনে হিন্দু-মুসলিম ন্যারেটিভ বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোতে গেরুয়া শিবিরের পক্ষেই গণভোট গিয়েছে। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেলেও লাভ হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত বিজেপির অনুকূলে কাজ করেছে।
দুর্নীতি ও অন্তর্কলহের প্রভাব
টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই এক প্রকার প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি কাজ করেছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সারদা-নারদার মতো ইস্যুগুলো সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এছাড়া দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে নবাগতদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছে। রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোটিং হার প্রমাণ করছে যে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষ মূলত সরকার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাবও এই ফলাফলে অনুঘটকের কাজ করেছে।
